173+ Bengali Short Story | চোখের সামনে আমার স্ত্রীকে নির্যাতন করলো ওরা

Bengali Short Story: দেশের অবস্থা ভালো না, তাই আমার প্রাণের চেয়েও প্রিয় বাড়িটাকে ছেড়ে অন্য কোথাও চলে যাচ্ছি। কোথায় যাচ্ছি তা জানি না, তবে এখানে থাকলে যে বেঁচে থাকবো না সেটা অনেকটা নিশ্চিত। তাই বাধ্য হয়ে সব কিছু ছেড়ে চলে যাচ্ছি দূরে কোথাও, সাথে আছে আমার বউ, আর কেউ নেই।

তবে ছিলো, আমার বাবা ছিলো, মা ছিলো, ছোট একটা ছেলে ছিলো, সুখের সংসার ছিলো। ১ সপ্তাহ হলো তারা মারা গেছে। যেদিন ওরা মারা যায় সেদিন আমরা গিয়েছিলাম আমার বন্ধুর বাড়িতে বেড়াতে। আমার বন্ধুর মেয়ের জন্মদিন ছিলো, তাই আমাদের দাওয়াত ছিলো ওদের বাড়িতে।

Bengali Short Story

কিন্তু ছুটির দিন হওয়াতে উপহার কেনার মতো কোন দোকান খোলা পাইনি, তাই আমি আর আমার স্ত্রী মিলে আবার বাইরে বের হয়েছিলাম আমার বন্ধুর মেয়ের জন্য উপহার কিনতে। ওর মেয়েটা অনেক মিষ্টি, দেখলেই আদর করতে ইচ্ছে করে। আমি তো মনে মনে ভেবে রেখেছিলাম আমার ছেলের সাথে ওর বিয়ে দিবো।

আমরা কিছুক্ষন বাইরে ঘুরাঘুরি করার পরে একটা বাচ্চাদের খেলনার দোকান পাই, সেখান থেকে কিছু উপহার কিনে সোজা আবার বন্ধুর বাসায় দিকে যাচ্ছিলাম। প্রায় ওদের বাসায় সামনে পৌছে গিয়েছিলাম, ঠিক এমন সময় বিকট একটা শব্দ শুনতে পেলাম। মুহূর্তের মধ্যেই ধসে পরে গেলো আমার বন্ধুর বাড়িটি, সেটি ছিলো ৬ তলা একটা বাড়ি।

অসহায়ের মতো দাঁড়িয়ে ছিলাম আমি আর আমার স্ত্রী। তারপর খবর পেলাম আমাদের পাশের দেশ থেকে রকেট হামলা চালানো হয়েছে। অবস্থা এতো খারাপ ছিলো যে সেই বাড়ির ধ্বংসস্তূপ থেকে আমার বাবা, মা, ছেলে, আর বন্ধুর পরিবারের লাশ উদ্ধার করার মতোও পরিস্থিতি ছিলো না।

আমাদের শহরের আরো ২৩ টি বাড়িতে বিমান ও রকেট হামলা চালিয়ে সেগুলোকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে আমাদের পাশের দেশ, যাদের শক্তি আমাদের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি।

এখন আমি আর আমার স্ত্রী পালিয়ে যাচ্ছি এই শহর থেকে, কিন্তু আমরা মনেহয় অনেক দেরি করে ফেলেছি, ইতিমধ্যে আমাদের পাশের দেশের সেনারা আমাদের শহরে ঢুকে পরেছে। যেহেতু আমাদের শহরটি সীমান্তের সাথে, তাই আমরাই প্রথমে হামলার শিকার হয়েছি হয়তো।

বেঁচে থাকার আর কোন আশা নেই, কারন আমাকে ও আমার স্ত্রীকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে আমাদের পাশের দেশের সেনারা। এই শহরেই তারা একটা অস্থায়ী ক্যাম্প করেছে, সেখা নিয়ে গেলো আমাদের। শুধু আমরা না, আছে আরো শত শত মানুষ। সবাই এই শহরের বাসিন্দা, সবাইকে বন্ধী করে ক্যাম্পে নিয়ে আসা হয়েছে।

তারপর শুরু হলো আমাদের উপর নির্যাতন। না, শারীরিক নির্যাতন না, মানুষিক নির্যাতন। কীভাবে? বলছি…

প্রথমে একজন সেনা এসে আমাকে জিজ্ঞেস করলো যে আমার সাথে আর কে কে আছে, আমি এটার উত্তর দিতাম না, কিন্তু আমার স্ত্রী বলে ফেললো যে, “আমি ওর স্ত্রী”।

চোখের সামনে আমার স্ত্রীকে নির্যাতন করলো ওরা

তারপর ঐ সেনা ভেতরে গিয়ে উচ্চ পদস্থ সেনাদের সাথে কি যেনো কথা বলছে আর হাসাহাসি করছে।

তারপর আরো ৪ জন সেনা এসে আমাকেও ভেতরে নিয়ে গেলো। তারপর একটা চেয়ারে বসিয়ে আমাকে বেঁধে ফেললো। আমি ধরেই নিয়েছিলাম যে আমার উপর নির্যাতন চালাবে ওরা, হয়তো অনেক মারধর করবে, অথবা গুলি করবে। পরে বুঝতে পারলাম ওদের পরিকল্পনা ছিলো ভিন্ন।

আমাকে বেঁধে ফেলার কয়েক মিনিট পরে আমার স্ত্রীকে ও ২ জন সেনা মিলে ধরে নিয়ে এলো। আমার মুখ বাঁধা, কিছুই বলতে পারছি না, হাত পার বাঁধা, কিছুই করতে পারছি না। আমার স্ত্রী অনেক কাঁদছে, ওদের পায়ে ধরে বসে আছে, অনেক অনুরোধ করেছে, কিন্তু ওদের মন গলেনি।

২ জন সেনা আমার স্ত্রীকে ধরে রেখেছে আর একজন সেনা আমারে স্ত্রীর শরীর থেকে কাপড় গুলো খুলছে। আস্তে আস্তে আমার স্ত্রীর শরীর থেকে সব কাপড় ওরা খুলে ফেললো, তারপর ওকে শোয়ানো হলো মাটিতে। এরপর শুরু হলো আমার স্ত্রীর উপর ওদের নির্যাতন। একজনের পর একজন আমার স্ত্রীর উপরে উঠে নিজেদের বীর পুরুষ প্রমান করছে।

এভাবে একের পর এক, প্রায় ৬ জন সেনা আমার স্ত্রীর উপর নির্যাতন চালানোর পরে আমার স্ত্রী সহ্য করতে না পারে দুনিয়া ছেড়ে চলে যায়। আমি বুঝতে পারছিলাম ও আর বেচে নেই, তবুও ওরা থামেনি, আমার মৃত স্ত্রীর উপর আরো অনেকক্ষন নির্যাতন চালালো। তারপর ২ জন সেনা আমার স্ত্রীকে টেনে নিয়ে গেলো তাঁবুর বাইরে, তারপর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিলো ওর দেহটা।

সবকিছুই হলো আমার চোখের সামনে। আমরা তো সাধারণ মানুষ, আমরা কি দোষ করেছি? যুদ্ধ যখন শুরু হয় তখন সাধারণ মানুষকে নিয়ে কেনো খেলা করে শক্তিধর দেশগুলো? ওরা কি ভুলে গেছে যে ওরা ও একদিন মারা যাবে? ওরা কি ভুলে গেছে যে আজকে ওরা যা করছে তার বিচার দুনিয়াতে না হলেও, হবে পরকালে? যদি ওরা ভেবে থাকে পরকাল বলে কিছুই নেই, তাহলে তো ওদের চেয়ে বড় মূর্খ আর কেউই হতে পারে না।

এই Bengali Short Story টি কাল্পনিক, আর যুদ্ধে সব সময় সাধারণ মানুষের ক্ষতি হয়, এটাই বোঝানো হয়েছে। এই prothomalo.org ওয়েবসাইটে আমরা নিয়মিত গল্প আপলোড করি।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*


19 + seventeen =