154+ Bengali Short Story | ৬ বছর পরে প্রাক্তন প্রেমিকার সাথে এক রাত

Bengali Short Story: তাড়াহুড়ো করে অফিস থেকে বের হবার সময় জুলির হাত থেকে অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কাগজগুলো পরে গেলো। সেই কাগজগুলো তুলতেই ব্যস্ত সে। তাকে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে এলো একজন লোক। লোকটাও জুলির সাথে মাটি থেকে কাগজগুলো তুলতে শুরু করলো। তারপর লোকটা তার হাতের কাগজগুলো জুলির হাতে দিলো।

লোকটার হাত থেকে কাগজগুলো নেয়ার সময় জুলি অবাক হয়ে লোকটার দিকে তাকিয়ে থাকে। কারন এই লোকটা যে তার অনেক চেনা, প্রায় ৫ বছর লোকটার সাথে প্রেমের সম্পর্ক ছিলো তার, সে তার প্রাক্তন বয়ফ্রেন্ড রনি।

রনি: ভালো আছো জুলি? ৬ বছর পরে তোমার সাথে দেখা।

জুলি: ৬ বছর, ৫ মাস, ১৩ দিন।

রনি: আমাদের বিচ্ছেদের দিনটা তো অনেক ভালো ভাবেই মনে রেখেছো। এভাবে যদি আমাকেও তোমার মনে জায়গা দিতে তাহলে আজকে আমরা একসাথে থাকতাম।

জুলি: এখানে দাঁড়িয়ে কথা বলবে? যদি তোমার সময় থাকে তাহলে চলো এককাপ চা খাই কোথাও গিয়ে।

রনি: অবশ্যই, চলো।

তারপর রনি জুলিকে নিয়ে একটা রেস্তোরাতে গেলো। সেখানে খাওয়া দাওয়া করে গাড়ি নিয়ে ঘুরতে ঘুরতে একটা নদীর পাড়ে চলে এলো তারা। প্রায় রাত হয়ে গেছে, চারিদিকে অন্ধকার, জুলির অনুরোধে রনি গাড়ি থামিয়ে ওর সাথে নদীর পাড়ে বসলো।

জুলি: তোমার মনে আছে আমরা যখন ভার্সিটিতে পড়তাম তখন প্রায় নদীর পাড়ে যেতাম।

রনি: খুব ভালো ভাবেই মনে আছে, নদীর পাড়েই তো প্রথমবার তোমাকে চুমু দিয়েছিলাম।

জুলি: হা হা হা… সেই দিনটার কথা তোমার মনে আছে এখনো! সেদিন তুমি তো আমার চেয়ে বেশি লজ্জা পাচ্ছিলে।

রনি: কারন ঐদিন প্রথমবার কোন মেয়েকে চুমু দিয়েছিলাম, তাই।

জুলি: আমাকেও ঐদিন প্রথমবার কোন ছেলে চুমু দিয়েছিলো।

রনি: কিন্তু এরপরে তো অনেক ছেলেই তোমাকে চুমু দিয়েছে, আমার সাথে সম্পর্কে থাকা অবস্থাতেই তুমি ভার্সিটির ২ জন স্যারের সাথে রাত কাটিয়েছিলে।

জুলি: আজকে থাক ঐসব কথা, আমি জানি আমি ভুল করেছিলাম, পরীক্ষায় বেশি নাম্বার পাওয়ার লোভে আমি অন্ধ হয়ে গিয়েছিলাম।

৬ বছর পরে প্রাক্তন প্রেমিকার সাথে এক রাত

রনি: তা, এখন কেমন চলছে তোমার দিন কাল? ওহ! তোমাকে তো জিজ্ঞেস ই করা হয়নি, তুমি নাকি বিয়ে করেছো! কেমন চলছে তোমার বিবাহিত জীবন?

জুলি: চলছে কোন রকম।

রনি: কেন! তোমার স্বামী তোমাকে ভালোবাসে না?

জুলি: অবশ্যই ভালোবাসে, আমার মতো সুন্দরী বউকে কেউ ভালো না বেসে থাকতে পারে!

রনি: তাহলে সমস্যা কোথায়?

জুলি: সমস্যা হচ্ছে, আমার স্বামী আমার সাথে অন্য আরো অনেক মেয়েকেও ভালোবাসে।

রনি: মানে!

জুলি: আসলে তোমার সাথে ব্রেকআপ হওয়ার পরে এর বড়লোকের ছেলের সাথে সম্পর্ক তৈরি হয় আমার। লোভে পরে বিয়ে করেছিলাম ওকে। ভেবেছিলাম অনেক টাকার আছে, সারা জীবন সুখে থাকতে পারবো। আমার বাবা মা ও রাজী হয়ে গিয়েছিলো, কারন ছেলের বাবার অনেক টাকা ছিলো। বিয়ের পরে ৬ মাস ভালোই কেটেছিলো, কিন্তু আস্তে আস্তে বুঝতে পারলাম আমার স্বামী আমার অজান্তে অনেক মেয়ের সাথে সম্পর্ক রাখছে।

রনি: তারপর?

জুলি: তারপর আর কি! এভাবেই চলছে। প্রায় রাতে আমার স্বামী বাসায় আসে না, হয়তো অন্য কোন মেয়ের বাড়িতে থাকে, হয়তো কোন হোটেলে মেয়েদের নিয়ে ফুরতি করে।

রনি: রাতে একা ঘুমাতে ভয় করে না? তুমি তো রাতে একা ঘুমাতে পারো না।

জুলি: ভয় তো করে, তবে কিছুই করার নেই, অভ্যাস হয়ে গেছে এখন।

রনি: ওহ!

জুলি: রনি, একটা অনুরোধ করবো, রাখবে?

রনি: কি অনুরোধ?

জুলি: আমার একটু ভালোবাসা প্রয়োজন, অনেক দিন স্বামীর ভালোবাসা পাইনি। ও তো এখন আমাকে স্পর্শ ও করে না। আমাকে একটু ভালোবাসা দেবে?

রনি: ভালোবাসা তো তোমাকে দিয়েছিলাম। অনেক দিয়েছিলাম। মনে আছে তোমার, প্রায় সময় আমরা একসাথে রাত কাটাতাম, তুমি তোমার বাসায় বলতে যে বান্ধবীর বাড়িতে বেড়াতে যাচ্ছো, আর আমি তো শহরে একাই থাকতাম একটা বাসা ভাড়া নিয়ে। দিনগুলো অনেক ভালো কাটছিলো। তোমাকে বলেছিলাম আমাদের বিয়ের কথা, তুমি রাজী হওনি, বলেছিলে বিয়ে তুমি তাকেই করবে, যার অনেক টাকা আছে, তারপর তোমার সাথে ব্রেকআপ হয়ে যায়।

জুলি: আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি, আমরা কি আবার নতুন করে সবকিছু শুরু করতে পারি না?

রনি: সম্ভব না, আমি বিবাহিত।

জুলি: আমি জানি তুমি বিবাহিত, কিন্তু তোমার বউ তো জানতে পারবে না আমাদের সম্পর্কে কথা, সব কিছু গোপন থাকবে।

রনি: আমার বউ জানতে না পারলেও আমাকে যে সৃষ্টি করেছে সে অবশ্যই জানবে, আর আমি কোন ভাবেই আমার বউকে ঠকাতে পারবো না, যদি তা করি, তাহলে অবশ্যই মরার পরে আমাকে শাস্তি পেতে হবে, আমি সেই শাস্তিকে ভয় পাই।

জুলি: তাহলে আমাকে বিয়ে করো, আমি তোমার বউকে রাজী করাবো। আমি তোমার বাসার কাজের লোক হয়ে থাকবো, কিন্তু আমি একটু শান্তি চাই, আমি এটা বুঝে গেছি যে টাকা কখনো সুখ দিতে পারে না।

রনি: আমি আমার বউকে তোমার আর আমার সম্পর্কের কথা বিয়ের আগেই জানিয়েছিলাম। সব জেনেই ও আমাকে বিয়ে করেছিলো, এখন যদি ও তোমাকে আমার ২য় স্ত্রী হিসেবে মেনে নিতে পারে তাহলে তোমাকে আমি বিয়ে করতে পারি, নয়তো সম্ভব না। যাই হোক, আজকে আসছি, বাসায় যেতে হবে।

তারপর রনি চলে গেলো নিজের বাড়িতে, আর জুলি একা বসে বসে কাঁদতে লাগলো। সে সারা জীবন অনেক ভুল করেছে, সেই সব ভুলের মাশুল সে দিচ্ছে এখন।

সম্পূর্ণ কাল্পনিক এই Bengali Short Story টি, আমরা প্রতিদিন এই prothomalo.org ওয়েবসাইটে নতুন গল্প আপলোড করি।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*


twenty + nine =