যে দেশে ভালোবাসার জন্ম New Bangla Golpo 2020

যে দেশে ভালোবাসার জন্ম New Bangla Golpo 2020
যে দেশে ভালোবাসার জন্ম New Bangla Golpo 2020

যে দেশে ভালোবাসার জন্ম (New Bangla Golpo 2020): মেয়েটা আমার দিকে এমন ভাবে তাকিয়ে আছে যে আমি কোন ভাবেই বুঝতে পারছি যে সে কি আমার উপর রেগে আছে নাকি তাকে উপকার করার জন্য সে আমার উপর খুশি। মেয়েরা আসলেই রহস্যময়।

যে দেশে ভালোবাসার জন্ম New Bangla Golpo 2020

যে দেশে ভালোবাসার জন্ম New Bangla Golpo 2020
যে দেশে ভালোবাসার জন্ম New Bangla Golpo 2020

আমি একপাশে দাঁড়িয়ে আছি, আর মেয়েটার তার বাবার সাথে অন্যপাশে দাঁড়িয়ে আছে। এমন সময় আমার বাবা ও চাচা সহ আমাদের বসতির প্রধান সদস্যরা তাঁবুর ভেতর আসলো। তাঁবুর ভেতরে উপস্থিত সবাই বাবাকে দেখে উঠে দাঁড়ালো। তারপর বাবা নিজের জায়গায় বসার পরে সবাইকে হাত ইশারা করে বসতে বললো, সবাই বসে পরলো। কিন্তু আমি দাঁড়িয়ে আছি।

বাবা (মোহাম্মদ হামজা শাহ): (আমাকে উদ্দেশ্য করে বললো) তুমি দাঁড়িয়ে আছো যে? আমি সবাইকে বসতে বলেছি।

আমি: সভায় অপরাধীদের বসার অনুমতি নেই। এটা আপনি আমাকে শিখিয়েছেন সর্দার।

বাবা: আমি জানি তুমি কেনো দাঁড়িয়ে আছো আর কেনো এই কথাটা বললে। তুমি অপরাধী না, বসতে পারো।

এবার শান্তিতে বসা যায়। বিচার হবার আগেই আমি বুঝে গেছি বিচারের ফলাফল কি হবে। এখন আর আমার কোনো চিন্তা নেই।

বিচার পর্ব – যে দেশে ভালোবাসার জন্ম New Bangla Golpo 2020

চাচা (রিফাত খান পাশা): সর্দারের অনুমতি থাকলে আমি কিছু বলতে চাই।

বাবা: তুমি কি রাহিম শাহ কে নিয়ে কিছু বলতে চাও? নাকি আমাদের অতিথিদের নিয়ে?

চাচা: তারা আমাদের অতিথি! অতিথি! এই অপরিচিত মেয়েটির ও তার বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে আমাদের শত্রুদের সৈন্যদলকে আক্রমণ করে আমার অবুঝ ভাতিজা রাহিম শাহ যে কি বড় ভুল করেছে সেটা কি আমার ভাই হামজা শাহ এখনো বুঝতে পারছেন না?

বাবা: তোমার প্রশ্নের উত্তর তুমি নিজেই দিয়েছো। আমাদের শত্রুদের সৈন্যকে আক্রমণ করেছে, বন্ধুরদের নয়।

বাবার উত্তর শুনে চাচা আরো রেগে আগুন হয়ে বসে পরলো নিজের জায়গায়। তার রাগী চোখগুলো দিয়ে মেয়েটার দিকে অপলক তাকিয়ে আছে। মেয়েটাকে অনেক অসহায় লাগছে। মেয়েটা চোখের পানি ফেলেই যাচ্ছে।

বাবা: রাহিম শাহ আমার ছেলে বলে আমি এই বিচারের রায় নিজে দিতে চাচ্ছি না। আমি সবার মতামত জেনে রায় দিতে চাচ্ছি। সবাই নির্ভয়ে নিজেদের মতামত দিবেন, যেমনটা আগে দিয়েছেন, এটাই আমি আশা করছি। আমাদের বসতির প্রধানদের মধ্যে কে কে চান রাহিম শাহর বিচার হোক, তারা হাত তুলুন।

এবার একটু একটু ভয় হচ্ছে, আল্লাহ রক্ষা করেন, আমি কোনো অন্যায় করিনি।

কয়েকজন প্রধান হাত তুললেন। বাকীরা বসে আছেন সবাই চুপচাপ।

বাবা: এবার তারা হাত তুলুন যারা চান রাহিম শাহকে নির্দোষ ঘোষণা করা হোক।

কয়েকজন প্রধান বাদে সবাই হাত তুললো। আলহামদুলিল্লাহ! আল্লাহ রক্ষা করেছেন আমারে। আলহামদুলিল্লাহ! অনেক খুশি লাগছে। জীবনে প্রথম মানুষকে মেরেছি, সেটাও পৃথিবী থেকে অন্যায় দূর করার জন্য।

তর্ক বিতর্ক – যে দেশে ভালোবাসার জন্ম New Bangla Golpo 2020

কামার (আমাদের বসতির লোহার সব রকম জিনিস তিনি বানান, তার নাম মোহাম্মদ আলী শাহ, বাবার ভালো বন্ধু, আমি তাকে “শক্ত চাচা” বলে ডাকি, কারন তার হাত অনেক শক্ত): এই বসতির একজন প্রধান হিসেবে আমি কিছু বলতে চাই সভায়, যদি সর্দারের অনুমতি থাকে।

বাবা: অবশ্যই আলী শাহ, অনুমতি দেয়া হলো।

কামার (মোহাম্মদ আলী শাহ): আমাদের শাহ বংশের লোকেদের নিয়ে গড়ে তোলা এই বসতির বয়স প্রায় ৭০০ বছর। আমাদের বাবা দাদারা একসাথে লড়াই করেছে অন্যায়ের বিরুদ্ধে। ইজার বংশের লোকেরা আমাদের সাথে শত্রুতা করেছে, আমাদের বসতি আক্রমণ করছে, আমাদের গম, তেল, গবাদি পশু, কাপড় এইসব লুট করে নিয়ে যাচ্ছে, প্রায় ৫০০ বছর যাবৎ কারন আমাদের পূর্বপুরুষেরা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলো। এমনকি আমাদের বন্ধু মারিশ বংশের লোকেরাও ইজারদের সাথে হাত মিলিয়েছে যদিও মারিশরা খ্রিষ্টান ও তারা আমাদের ইসলাম ধর্মকে সমর্থন কিন্তু ইহুদি ধর্মে বিশ্বাসী ইজারা কোনো কারন ছাড়াই আমাদের উপর অত্যাচার চালায়। সেই ইজার সৈন্যদের বিরুদ্ধে লড়াই করে তাদের হাত থেকে অসহায় এক লোক ও তার মেয়েকে উদ্ধার করেছে রাহিম শাহ। তাহলে তাকে কেনো আজকে বিচারের সম্মুখীন হতে হলো?

বাবা: অনেক কঠিন তোমার এই প্রশ্নের উত্তর, আলী শাহ। উত্তর আমি জানি, তুমিও জানো।

চাচা: আমাদের সম্মানীয় মোহাম্মদ আলী শাহ কি ভুলে যাচ্ছেন যে ইতিমধ্যে ইজাররা আমাদের হুমকি দিয়েছে যে তারা প্রতিশোধ নেবে।

কামার: আমাদের সর্দারের সুযোগ্য ভাইয়ের কি এটা মনে নেই যে ইজাররা এর আগেও কোনো কারন ছাড়াই আমাদের বসতি আক্রমণ করছিলো আর সেই সাথে আমাদের মজুত করা খাবার ও আমাদের মেয়ে ও স্ত্রীদের ধরে নিয়ে গেছে?

চাচা: আপনার বড় মেয়ে ও স্ত্রী হত্যার প্রতিশোধ নেয়ার জন্য আমরা আমাদের বসতিকে বিপদে ফেলতে পারি না। ভালো হবে যদি আপনি আপনার ছোট মেয়ের কথা ভাবেন, যে এখন জীবিত আছে।

কামার: (রেগে গিয়ে বললো) আমি আমার স্ত্রী সন্তানের কথা বলছি না, তারা আমাদের বসতি থেকে শত শত মেয়েকে ধরে নিয়ে গেছে আর তাদের সাথে কি করা হয়েছে সেটা আপনি জানেন। তারা মানুষের মুখোশ পরা পশু। তাদের বিরদ্ধে লড়াই করা অন্যায় নয়। আজকে এই লোকটাকে ও মেয়েকে যদি রাহিম শাহ উদ্ধার না করতো তাহলে এদের পরিনতি সেটাই হতো, যেটা আমাদের বসতির ভাইদের সাথে ও মেয়েদের সাথে হয়েছিলো।

বাবা: (উঠে দাঁড়িয়ে গেলো নিজের জায়গা থেকে, বাবাকে দাঁড়াতে থেকে সবাই নিজের জায়গা থেকে উঠে দাঁড়ালো, বাবা রেগে গিয়ে বললো) এটা যে একটি সভা আর আপনাদের সর্দার এখনো বেঁচে আছে সেটা কি আপনারা ভুলে গেছেন?

কামার: দুঃখিত সর্দার। আমি দুঃখিত।

চাচা: দুঃখিত সর্দার।

বাবা: আমি বুঝতে পারছি তোমার মনের অবস্থা, আলী শাহ। আর রিফাত খানকে আমি শেষবারের মতো সাবধান করছি, ইজারদের পক্ষ নেয়া বন্ধ করো। তুমি আমার ভাই, আমাদের বসতির লোক। কথাটা মনে রেখো।

চাচা: মনে থাকবে সর্দার।

বাবা: রাহিম শাহ যা করেছে তা প্রশংসার যোগ্য। আর যাদেরকে উদ্ধার করেছে তারা এখন থেকে আমাদের অতিথি হয়ে থাকবে। আর তারা যদি চায় তাহলে আমাদের বসতির একজন হতে পারে। আজকের সভা এখানেই শেষ।

বিচার শেষে – যে দেশে ভালোবাসার জন্ম New Bangla Golpo 2020

আলহামদুলিল্লাহ! আল্লাহ আপনি ন্যায় বিচার করেছেন! শয়তানদের বিরুদ্ধে আমার প্রথম যুদ্ধ সফল হয়েছে। তাঁবুর বাইরে বসতির লোকেরা অপেক্ষা করছে বিচারের রায় শোনার জন্য, সেই সাথে আমার মা ও ভাইয়েরা ও বন্ধুরা অপেক্ষা করছে অধীর আগ্রহ নিয়ে।

বাবা তাঁবুর বাইরে গিয়ে সবাইকে বিচারের ফলাফল জানালো। সবাই খুশিতে আনন্দ করেছে। আমার এই কাজে সবাই অনেক খুশি, কারন এই ইজার সৈন্যরা আমাদের উপর অনেক অত্যাচার করে। তাদের মেরেছি বলে সবাই অনেক খুশি।

মা আর আমার ভাইয়েরা খুশিতে আমাকে জড়িয়ে ধরলো। তারপর আমার বন্ধুর আমার সাথে এসে আনন্দ ভাগ করে নিচ্ছে। আমার মা, চাচি আর চাচাতো বোনেরা মেয়েটিকে নিয়ে যাচ্ছে তাদের সাথে। আর লোকটা আমার ভাই ও বাবার সাথে যাচ্ছে। আমি বার বার মেয়েটার দিকে তাকাচ্ছি বলে আমার বন্ধুর আমার সাথে মজা করতে শুরু করেছে।

মোহাম্মদ সালাউদ্দিন শাহ (আমার বন্ধু): তুই আমাদের সাথে জঙ্গলে গেলি হরিণ শিকার করতে, কিন্তু নিয়ে আসলি একটি মেয়েকে। ঘটনা তো বুঝলাম না।

মোহাম্মদ নুরুদ্দিন শাহ (আমার বন্ধু): তুই মেয়ে কোথায় দেখছিস! আমি তো দেখতে পাচ্ছি একটা পেত্নী!

আমি: তোরা শুধুমাত্র মেয়েটার কথা বলছিস! মেয়েটার সাথে তার বাবা ও ছিলো, আমি কি তার বাবাকে উদ্ধার করিনি! আমি তো উদ্ধার করেছি ঐ লোকটাকে, সাথে মেয়েটা ছিলো।

মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন শাহ (আমার বন্ধু): ভুল কথা, উদ্ধার করেছিস মেয়েটাকে, সাথে লোকট ছিলো।

মোহাম্মদ নুরুদ্দিন শাহ: হা হা হা……….

মোহাম্মদ সালাউদ্দিন শাহ: তোরা যে যা ই বলিস, রাহিম আমাদের কথা বললে আমাদের বিপদ হতে পারতো। যদিও ইজাররা আমাদের ছেড়ে দিবে না।

মোহাম্মদ নুরুদ্দিন শাহ: জানবে কি করে আমরা ছিলাম! একটাকেও জীবিত রেখেছি নাকি!

আমি: তোরা না থাকলে আমি একা কখনোই এটা করতে পারতাম না। আল্লাহর কাছ থেকে পাওয়া বিশেষ উপহার হচ্ছে আমার ৩ বন্ধু।

মোহাম্মদ সালাউদ্দিন শাহ: আমরা তোর জন্য আমাদের জীবন দিতেও প্রস্তুত, কারন তুই ন্যায়ের পথে। কিন্তু তোর চাচাকে আমার অনেক সন্দেহ হয়।

মোহাম্মদ নুরুদ্দিন শাহ: এই লোকটা তোর চাচা হলো কি করে রে? তার নামের শেষে তো ইজারদের নামের মতো “পাশা” আছে।

আমি: মার কাছে একদিন শুনেছিলাম, আমার দাদা একবার ইজারদের থেকে আমাদের বসতির লোকদের উদ্ধার করতে ইজারদের বসতিতে আক্রমণ করেছিলো। সেই যুদ্ধে ইজাররা পরাজিত হয়েছিলো আর আমার চাচা রিফাত খান পাশাকে ঐ ইজারদের বসতি থেকে উদ্ধার করে আমাদের বসতিতে নিয়ে এসেছিলো আমার দাদা। কারন যুদ্ধে রিফাত খান পাশার বাবা ও মা দুজনেই নিহত হয়েছিলো। সাধারণত আমাদের বসতির কেউ নারীদের আক্রমণ করে না, কিন্তু রিফাত খান পাশার মা তাদের পরাজয় বুঝতে পেরে তাদের বসতিতে বন্দি থাকা আমাদের বসতির নিরস্ত্র নারী পুরুষ এমনকি শিশু সহ প্রায় ৮০ জনকে মেরে ফেলেছিলো। যদি আমার বাবা রিফাত খান পাশার মাকে না মারতো তাহলে সে আমাদের সব বন্দিদের মেরে ফেলতো।

মোহাম্মদ নুরুদ্দিন শাহ: তোর বাবা! মানে আমাদের সর্দার মোহাম্মদ হামজা শাহ!

আমি: হ্যা! বাবার বয়স তখন কম ছিলো। আর সেটা ছিলো বাবার প্রথম যুদ্ধ। বাবা গোপনে ইজাদের কারাগারে গিয়ে আমাদের লোকদের উদ্ধার করতে গিয়েছিলো। সেখানে গিয়ে দেখে রিফাত খান পাশার মা একের পর এক বন্দীকে মেরে ফেলছে, বন্দীরা ছিলো হাত পা বাঁধা অবস্থায়। আমার বাবা তাকে থামানোর চেষ্টা করলে সে আমার বাবাকেও আক্রমণ করে, তাই বাধ্য হয়ে বাবা আমার চাচা রিফাত খান পাশার মাকে হত্যা করে।

মোহাম্মদ সালাউদ্দিন শাহ: তাহলে এটাই আসল ঘটনা! রিফাত খান পাশা হচ্ছে ইজাদের বংশধর!

আমি: না, সে আমাদের বসতির একজন। আমার দাদা ও দাদি কখনো আমার চাচ ও বাবার মধ্যে পার্থক্য করেনি, আমার বাবাও তাকে নিজের রক্তের ভাই মনে করে, আমিও তাকে সম্মান করি।

মোহাম্মদ নুরুদ্দিন শাহ: আজ কাল সম্মানের অনেক অভাব! আমি এমন লোককয়ে সম্মান করতে পারবো না।

আমি: আমি কি তোকে বলেছি তোর ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাউকে সম্মান করতে?

মোহাম্মদ নুরুদ্দিন শাহ: কিন্তু তুই তো সম্মান করিস, এটাই তো সমস্যা। কারন আমরা তোকে অনুসরণ করি।

আমি: আমাকে ততোক্ষণই অনুসরণ করবি যতক্ষণ আমি সঠিক পথে আছি।

মোহাম্মদ সালাউদ্দিন শাহ: এই জন্যই তোকে আমার ভালো লাগে, তুই সব সময় ন্যায়ের কথা বলিস।

মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন শাহ: আমার আমার ভালো লাগে ও সব সময় আমাদের বিপদ থেকে বাঁচায় বলে।

আমি: বিপদ থেকে বাঁচানোর মালিক আল্লাহ, আমি তো শুধুমাত্র আমার কর্তব্য পালন করি।

মোহাম্মদ সাদিক শাহ (আমার বড় ভাই ও আমাদের বসতির সন্যদলের প্রধান): আমাকে ও আমার কর্তব্য পালন করা উচিৎ।

বন্ধুদের কার্যকলাপ – যে দেশে ভালোবাসার জন্ম New Bangla Golpo 2020

আমার বড় ভাইকে দেখে আমার ৩ বন্ধু ভয় পেয়ে গেলো। ওদের চোখে মুখে ভয় দেখা যাচ্ছে। ওদের ভয়, যদি কেউ যেনে যায় যে আমাদের সাথে ওরাও ইজার সৈন্যদের সাথে লড়াই করেছিলো, তাই।

মোহাম্মদ সাদিক শাহ: ভয়ের কিছুই নেই, আমি কেউকে বলবো না যে যুদ্ধটা ১জন না, ৪ জন মিলে করেছিলো। তবে আমার থেকে লুকানো চেষ্টা করাটা তোদের ভুল হয়েছে। (সাইফুদ্দিনের তলোয়ার ওর হাতে দিয়ে সাইফুদ্দিনকে বললো) নিজের তলোয়ার যুদ্ধক্ষেত্রে ফেলে আসা বুদ্ধিমান যোদ্ধাদের কাজ নয়।

তারপর আমার ভাই চলে গেলো আর সালাউদ্দিন ও নুরুদ্দিন মিলে সাইফুদ্দিনের পিঠে কিল ঘুষি দিতে শুরু করলো আর ভয়ে সাইফুদ্দিন দৌড় দিলো। পেছনে গেলো সালাউদ্দিন আর নুরুদ্দিন। যাই হোক, আমার বড় ভাই ঠিকই বলেছে, আমাদের আরো সতর্ক থাকা উচিৎ ছিলো। হয়তো সাইফুদ্দিনের তলোয়ার মারামারির জায়গায় পরে ছিলো বলেই শ্ত্রুরা বুঝতে পেরেছে যে আমাদের বসতির লোকেরাই আক্রমণ করেছে তাদের সৈন্যদের।

মেয়েটির রহস্য – যে দেশে ভালোবাসার জন্ম New Bangla Golpo 2020

কিন্তু আমি কোনো ভাবেই বুঝতে পারছি না যে ইজাররা এতো ভালো হলো কিভাবে! তারা ঐ মেয়েটিকে ও তার বাবাকে বন্দি করে নিয়ে যাচ্ছিলো যেটা তারা কখনোই করে না। তারা যুদ্ধক্ষেত্রেই নারী শিশু সবাইকে মেরে ফেলে যদিও নারীদের ভোগ করার জন্য মাঝে মাঝে নিয়ে যায় তাদের বসতিতে, কিন্তু ঐ লোকটাকে না মেরে কেনো বন্দি করে নিয়ে যাচ্ছিলো! আমার জানতেই হবে এই রহস্য।

মেয়েটা ও তার বাবা যে তাঁবুতে আছে সেখানে গিয়ে তাদের অনুমতি নিয়ে তাদের তাঁবুতে প্রবেশ করলাম,

আমি: আসসালামুয়ালাইকুম।

লোকটি: ওয়ালাইকুম আসসালাম। বসো বাবা, আজকে তোমার জন্য আমারা বেঁচে গেছি।

আমি: আমি কিছুই করিনি, আল্লাহ আপনাদের বাঁচিয়েছেন, আমি শুধুমাত্র আমার কর্তব্য পালন করেছি।

লোকটি: তুমি সবার চেয়ে আলাদা।

আমি: আমি তেমন বিশেষ কিছুই না, আমার বন্ধুরা সাথে ছিলো, তাই আমি আপনাদের উদ্ধার করতে পেরেছি।

লোকটা: আমি দেখছি বাবা, এই বয়সে তুমি ইজার সৈন্যদের সাথে যেভাবে লড়াই করেছো, আমার বাবার কথা মনে করিয়ে গিয়েছো তুমি।

আমি: কে আপনার বাবা? আমি কি জানতে পারি?

লোকটা: এখন তোমাকে কিছুই বলতে পারবো না, তবে অবশ্যই তুমি জানতে পারবে সঠিক সময়ে।

আমি: অপেক্ষা করবো সেই সময়ের।

মেয়েটা আমার দিকে বার বার তাকাচ্ছে। দেখে মনে হচ্ছে কিছু বলতে চায়, কিন্তু বলতে পারছে না। তাই আমি নিজেই মেয়েটাকে জিজ্ঞেস করলাম,

আমি: (মেয়েটার দিকে তাকিয়ে) আপনার কোনো কিছু প্রয়োজন হলে আমাকে জানতে পারেন। যদিও আমি এখনো জানি না ইজাররা আপনাদের কেনো বন্দি করে নিয়ে যাচ্ছিলো, তবে আমাদের বসতিতে ইজারদের অনেক গুপ্তচর আছে। তাই সাবধানে থাকবেন।

আমার ভালোবাসা – যে দেশে ভালোবাসার জন্ম New Bangla Golpo 2020

মেয়েটা কিছু বলবে, ঠিক এমন সময় আমার মা ও চাচাতো বোন তাঁবুর ভেতরে প্রবেশ করলো।

মা: আসসালামু আলাইকুম

লোকটা: ওয়ালাইকুম আসসালাম (মাকে দেখে উঠে বসতে চাইলেন)

মা: আপনি বিশ্রাম নিন। আমি আপনাক দেখতেই এসেছি। (আমাকে উদ্দেশ্য করে বললো) তুমি সোফিয়া আর তোমার বোনকে নিয়ে একটু বাইরে যাবে?

আমি: (মেয়েটার নাম তাহলে সোফিয়া) যো হুকুম।

সুহানি খান পাশা (আমার চাচাতো বোন): চলেন রাহিম শাহ….

আমি, সুহানি আর সোফিয়া বাইরে হাঁটছি। কেউই কিছু বলছে না। আমিও চুপচাপ আছি। যদিও আমার ইচ্ছে করছে সোফিয়ার সাথে কথা বলতে। এমন সময় সুহানি বললো,

সুহানি খান পাশা: (সোফিয়াকে উদ্দেশ্য করে) আমি কি একটু রাহিম শাহর সাথে একা কথা বলতে পারি?

সোফিয়া খান গাজী: অবশ্যই, আমি একটু সামনে ঘুরে দেখি।

তারপর সোফিয়া তাড়াতাড়ি করে আমাদের থেকে দূরে চলে গেলো আর সুহানির এমন ব্যবহার আমার মোটেও পছন্দ হয়নি।

আমি: এটা কি হলো? এমন কি কথা আছে যা সোফিয়ার সাথে বলা যায় না?

সুহানি খান পাশা: ও একটা বাইরের মেয়ে। আমি ওর সামনে কোনো কথা বলতে চাই না।

আমি: কিন্তু আমি তো ওকে বাইরের মেয়ে মনে করছি না। আর তোমার সাথে আমার এমন কোনো কথা থাকতে পারে না যেটা সবার সামনে বলা যাবে না।

সুহানি খান পাশা: তুমি কাজটা ঠিক করোনি, একটা সাধারণ মেয়ের জন্য ইজারদের সাথে লড়াই করে আমাদের বসতির জন্য বিপদ ডেকে আনার কোনো মানেই হয় না।

আমি: সেখানে শুধুমাত্র সোফিয়াও ছিলো না, সাথে ও বাবাও ছিলো।

সুহানি খান পাশা: যেটাই হোক না কেনো। সবাই এটাই ভাবছে যে তুমি এই মেয়েটার জন্য লড়াই করেছো।

আমি: সবাই ভাবছে না। শুধু তুমি আর চাচা-চাচি এটাই ভাবছে। আমি শুনেছি চাচা-চাচি এটা নিয়ে কথা বলছিলো তোমার সাথে।

সুহানি খান পাশা: কথা যখন শুনেছো তখন বুঝতেই পারছো যে তুমি ভুল করেছো।

আমি: ভুল আমি করিনি, ভুল তুমি করছো।

সুহানি খান পাশা: তোমাকে আমি অন্য কারো হতে দেবো না।

আমি: আমি আগেও বলেছি, এখনো বলছি, আমি তোমাকে আমার বোনের মতো করে করি। বেশি বেশি কিছুই না।

সুহানি খান পাশা: কিন্তু আমি তোমাকে আমার ভাই মনে করি না, এর চেয়ে বেশি কিছু মনে করি।

আমি: তোমাকে আগেও বোঝানোর চেষ্টা করেছি, এখনো বলছি, জোর করে ভালোবাসা পাওয়া যায় না।

সুহানি খান পাশা: কিন্তু আমি আমার ভালোবাসা জোর করে আদায় করে নেবো। সর্দারের সাথে বাবার কথা হয়েছে। সর্দার রাজি, সাদিক শাহ রাজি, হালিমা শাহ, তাহলে তুমি কেনো রাজি হোচ্ছো না?

আমি: বলেছি অনেক বার, আমি তোমাকে আমার বোনের মতো মনে করি। এর বেশি কিছুই না।

সুহানি খান পাশা: দেখে নেবো এই মেয়েকে আমি! দেখে নেবো!

প্রথম কথা বলা – যে দেশে ভালোবাসার জন্ম New Bangla Golpo 2020

তারপর সুহানি চলে গেলো রাগ করে। আমি এদিক ওদিক তাকিয়ে সোফিয়াকে খুঁজছি, দেখলাম সামনে খোলা মাঠে একটা ঘোড়াকে আদর করছে ও। আমি ওর সামনে গেলাম।

আমি: এই ঘোড়াটার সামনে আসতে সবাই ভয় পায়। কিন্তু আমি অবাক হচ্ছি এটা দেখে যে এটাকে আপনি আদর করছেন। আর এটা শান্ত ভাবেই দাঁড়িয়ে আছে।

সোফিয়া খান গাজী: আমি আপনাদের মাঝে ঝগড়ার কারন হয়ে গেলাম। সেই সাথে আপনার বসতির জন্য বিপদের কারন।

আমি: এই বিপদ আপনার আর আমার জন্মের আগে থেকেই শুরু হয়েছে। তাই আপনি এই বিপদের কারন হতে পারেন না। আর সুহানি আমার বোন। শুধুমাত্র বোন।

সোফিয়া খান গাজী: সে আপনাকে তার জীবন সঙ্গী হিসেবে পেতে চায়।

আমি: কিন্তু আমি চাই না।

সোফিয়া খান গাজী: কাউকে পছন্দ করেন?

আমি: এতোদিন করতাম না, এখন করি।

সোফিয়া খান গাজী: জানতে পারি? কে সেই ভাগ্যবান যে এই সত্যবাদী সাহসী মানুষের মনের মানুষ?

আমি: বলবো, আপনাকেই বলবো। আজ থাক, অন্যএকদিন।

দূর থেকে আমার বাবার দেহরক্ষী রাশেদ ভাই আমাকে ডাকছে,

মোহাম্মদ রাশেদ শাহ: রাহিম শাহ! রাহিম শাহ! সর্দার আপনাকে দেখা করতে বলেছেন মাগরিবের নামাজের পরে।

আমি: (জোরে জোরে বললাম) ঠিকাছে, আমি দেখা করবো, সর্দারকে বলবেন আমি নামাজের পরে তার তাঁবুতে দেখা করবো।

মোহাম্মদ রাশেদ শাহ: যো হুকুম রাহিম শাহ।

সোফিয়া খান গাজী: সবাই আপনাকে খুব ভালোবাসে, তাই না?

আমি: না, সবাই না, খুব অল্প সংখ্যক।

সোফিয়া খান গাজী: মাগরিবের আজানের সময় হয়ে গেছে। আপনি কি আমাকে আপনাদের বসতির মেয়েদের পানির কূপের রাস্তাটা দেখিয়ে দেবেন?

আমি: চলুন।

তারপর মেয়েদের কূপের সামনে নিয়ে গেলাম সোফিয়াকে। সেখানে অনেকেই অপেক্ষা করছে পানির জন্য। এটাই নিয়ম, এমনকি আমার মা সেখানে গেলেও তাকে অপেক্ষা করতে হবে, তবে যারা অসুস্থ তাদের আগে দেয়া হয়।

সোফিয়া কূপের সামনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছে, আমি ও চলে যাবো, আমাকেও তাড়াতাড়ি যেতে হবে ছেলেদের কূপের সামনে। নয়তো সময় মতো মাগরিবের নামাজ পড়তে পারবো না মসজিদে গিয়ে। আমাদের মসজিদে ছাউনি আছে, অধিকাংশ বসতির মসজিদে ছাউনি নেই, খোলা আকাশের নিচেই তারা নামাজ পড়ে।

যাই হোক, আমাদের বসতির সবচেয়ে বয়স্ক একজন মহিলা অযু করার জন্য এসেছেন, তিনি আমাকে আর সোফিয়াকে দেখে বললেন,

বয়স্ক মহিলা: মাশাল্লাহ। অনেক সুন্দর তোমাদের জুটি, সুখি হও তোমরা।

আমি: দাদি আপনি ভুল করছেন। এই মেয়েটি আমার স্ত্রী নয়।

বয়স্ক মহিলা: আমি ভুল করি না বাবা। (সোফিয়াকে উদ্দেশ্য করে ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললো) তোমাদের সন্তান আমাদের বাদশাহ হবে, মুসলিমদের বাঁচাবে শ্ত্রুদের থেকে।

আমি মনে মনে বলছি, “এই দাদি তো দেখছি আমাকে বিপদে ফেলে দেবে, এখনো বিয়েই হলো না, আর উনি বলছেন যে আমাদের ছেলে নাকি বাদশাহ হবে! বাদশাহ মানে অনেক বড় কিছু! অনেক বড় কিছু! একটি বসতির সর্দারের ছেলে আমি, হতে পারে আমার ছেলেও সর্দার হবে। কিন্তু বাদশাহ তো অনেক বড় কিছু! এমন হাজার হাজার বসতি মিলে একটি রাজ্য হয়, আর সেই রাজ্যের রাজা হচ্ছে বাদশাহ! আমার ছেলে বাদশাহ হবে কিভাবে! যাই হোক, এখানে আর বেশিক্ষন থাকা যাবে না।

আমি চলে যাচ্ছি আর বার বার পেছনে তাকাচ্ছি, সোফিয়া অপলক আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আমি পেছনে বার বার তাকাচ্ছি তাই সামনে খেয়াল করিনি, একটা পাথরের সাথে ধাক্কা খেয়ে পরে গেলাম। দূর থেকে আমার পরে যাওয়া দেখে সোফিয়া হাসছে। এই প্রথম ওর মুখে হাসি দেখলাম। অনেক মিষ্টি ওর মুখের হাসি।

আসল রহস্য – যে দেশে ভালোবাসার জন্ম New Bangla Golpo 2020

মাগরিবের নামাজের পরে বাবার তাঁবুতে গেলাম। বাবা বসে আছেন একা একা। কিছু একটা ভাবছেন।

আমি: আসসালামু আলাইকুম সর্দার।

বাবা: ওয়ালাইকুম আসসালাম মোহাম্মদ রাহিম শাহ।

আমি: রাশেদ ভাই বলেছিলো আপনি আমাকে দেখা করতে বলেছেন।

বাবা: (বসা থেকে উঠে দাঁড়ালেন) আজ বিকেলে আমাদের বসতির পশ্চিম দিকের ঘাসের মাঠে আমাদের প্রায় ১০০ ছাগল আটক করেছে ইজার সৈন্যরা।

আমি: ওরা এভাবে থামবে না। আমাকে হুকুম করুন, এখনই আমি ওদের থেকে আমাদের ছাগলগুলো ছাড়িয়ে আনবো।

বাবা: সেখানে ১০ জন সৈন্য আছে। তুমি কি একা পারবে ওদের সাথে?

আমি: পারবো। আর যদি না পারি তাহলে জীবিত নয়, শহীদ হয়ে ফিরে আসবো।

বাবা: তোমার এই কথাগুলো আমাকে ভয় পাইয়ে দেয়।

আমি: আমার কোন কথায় সর্দার কষ্ট পেয়ে থাকলে আমি দুঃখিত।

বাবা: তুমি যাদের উদ্ধার করেছো তাদের সম্পর্কে কি তুমি কিছু জানো?

আমি: বিশেষ কিছুই জানি না সর্দার।

বাবা: আমাদের রাজ্যের বর্তমান রাজার কথা কি তুমি জানো?

আমি: আপনি কি তার কথা বলছেন যে তার ছোট ভাইকে বন্দি করেছে এই কারনে যে তার ছোট ভাই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে? আর সেই সাথে সে তার ছোট ভাইকে সরিয়ে নিয়ে বাদশাহ হয়েছে।

বাবা: হ্যা, আমি তার কথাই বলছি। তুমি কি বর্তমান বাদশাহর ছোট ভাইয়ের ব্যাপার কিছু জানো? যে আমাদের বাদশাহ ছিলো….

আমি: আমি তাকে কখনো দেখিনি, তবে তার কথা শুনেছি অনেক। তিনি অনেক ভালো, সৎ, ন্যায়বিচারক। তিনি ছোট ভাই হওয়া সত্তেও তাকেই তার বাবা বাদশাহ বানিয়েছিলেন কারন তিনি বাদশাহ হবার যোগ্য ছিলেন। আর এই জন্য তার বড় ভাই আর আমাদের বর্তমান বাদশাহ সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন। কৌশলে সবাইকে নিজের পক্ষে নিয়ে নিজে বাদশাহ হয়েছে। শুনেছি তিনি এখন সকল মুসলিম বসতির খাজনা বাড়িয়ে দিয়েছেন।

বাবা: অনেক কিছুই জানো দেখছি, তাদের নাম জানো?

আমি: বর্তমান বাদশাহর নাম, ইফাত খান গাজী। তার ছোট ভাই ও পূর্বের বাদশার নাম মোহাম্মদ বোরহানুদ্দিন খান গাজী।

বাবা: তাদের বাবা ও আমাদের পূর্বের বাদশার সম্পর্কে কিছু জানো?

আমি: তিনি এখন মৃত, আল্লাহ ওনাকে জান্নাতবাসি করুক। শুনেছি তিনি আগে খ্রিষ্টান ছিলেন, পরে মুসলমান হয়েছিলেন, তার নাম ছিলো মোহাম্মদ তৈমুর খান গাজী। যদিও আমাদের বর্তমান বাদশাহ মারশ বসতির এক খ্রিষ্টান সর্দারের মেয়ে বিয়ে করেছেন ও নিজেও খ্রিষ্টানদের ধর্ম পালন করেন, তবে প্রকাশ্যে তিনি নিজেকে মুসলিম বলেন। এছাড়া তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করতে যাচ্ছেন ইজার বংশের এক ইহুদি সর্দারের মেয়েকে, আর এই জন্য এখন ইজারদের ক্ষমতা অনেক বেশি বেড়ে গেছে যার জন্য ওরা আমাদের ছাগল ও ঘাসের মাঠ দখল করার সাহস পেয়েছে।

বাবা: (মুচকি হেসে বললেন) আমি জানতাম না যে আমার ছোট ছেলে এতো খবর রাখে।

আমি: আমাদের বসতির গুপ্তচরের সাথে আমার সম্পর্ক অনেক ভালো। সে আমাকে এইসব তথ্য দেয়।

বাবা: ভালো, গুপ্তচরদের সাথে ভালো সম্পর্ক থাকা একজন ভালো সর্দারের বৈশিষ্ঠ্য। যদিও সর্দারের পদ তোমার জন্য যঠেষ্ট নয়।

আমি: আমি একজন সাধারণ ছেলে, আমি সাধারণ হয়েই থাকতে চাই।

বাবা: আল্লাহ তোমার মধ্যে অসাধারণ গুণ দিয়েছেন, আর অবশ্যই তোমার সেই গুণগুলো তোমাকে সাধারণ থাকতে দিবে না।

আমি চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছি। বাবা আমার সামনে এসে আমার হাত ধরে নিয়ে তার বিছানায় বসালেন।

বাবা: তুমি মাঝে মাঝে ভুলে যাও যে আমি তোমার বাবা। মাঝে মাঝে আমাকে বাবা বলে ডাকলে আমি বেশি খুশি হবো।

আমি: আমার ভালো লাগে না বাবা। চারিদিকে এতো অশান্তি। আমি সাধারণ হয়ে থাকতে চাই। ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়তে চাই, সবার সাথে কাজ করতে চাই, দিন শেষে শান্তিতে ঘুমাতে চাই। এর বেশি আর কিছুই না।

বাবা: আমি জানি, জানি আমি তুমি চাও। সাইফুদ্দিনের তলোয়ারটা কি ওকে দেয়া হয়েছে? ও কি পেয়েছে নিজের তলোয়ার?

আমি: আমি জানেন সব কিছু!

বাবা: তুমি কি ভেবেছিলে তোমার বড় ভাই সাদিক সেখানে গিয়েছিলো যেখানে তোমরা ৪ জন মিলে লড়াই করেছো?

আমি: আসলে আমি ওদের এই ব্যাপারে জড়াতে চাইনি। কিন্তু ওদের বাঁধাও দিতে পারিনি, ওরা আমাকে এতোটা সম্মান করে যে আমার জন্য ওরা ৩ জন ওদের জীবন দিতেও প্রস্তুত।

বাবা: আল্লাহ তোমাকে উপহার হিসেবে অনেক কিছু দিয়েছেন, সেই উপহার গুলোর মধ্যে সবচেয়ে দামী উপহার হচ্ছে তোমার ৩ বন্ধু সালাউদ্দিন, নুরুদ্দিন, সাইফুদ্দিন।

আমি: আপনি ঠিকই বলেছেন।

বাবা: তুমি শত্রুদের ব্যাপার অনেক নির্দয়। যতজন ইজার সৈন্যকে তুমি মেরেছো সবাইকে আমি সনাক্ত করতে পেরেছি। আমি জানি তুমি কিভাবে লড়াই করো। আমি নিজে তোমাকে শিখিয়েছি তলোয়ার চালানো। তুমি কারো মুখে, মাথায়, বুকে ও পেটে আঘাত করো না। কেনো?

আমি: আমার কষ্ট লাগে কারো জীবন শেষ করতে। তাই হাতে ও পায়ে আঘাত করি এতে শত্রুকে বাঁচানো সম্ভব, কিন্তু লড়াই করার সক্ষমতা সে হারায় সারা জীবনের জন্য।

বাবা: সেখানে ২৫ জন ইজার সৈন্য ছিলো, এর মধ্যে ১৭ জনের শুধুমাত্র হাতে ও পায়ে আঘাতের চিহ্ন ছিলো, বাকীদের বুকে, পেটে, মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিলো। তার মানে কি এটা ধরে নেবো যে সেই ১৭ জনকে তুমি শেষ করেছো?

আমি: হ্যা, কিন্তু তারা কি বেঁচে ছিলো?

বাবা: না, তাদের কেউই বাঁচাতে আসেনি। তারা সবাই মারা গেছে।

আমি: আফসোস ওদের জন্য। ওরা ভুল পথে ছিলো। আমি ওদের অনেকবার সতর্ক করেছিলাম, ওরা আমার কথা না শুনে বরং আমাকে আক্রমণ করে।

বাবা: যাদেরকে বাঁচিয়েছো তাদের নাম জানো?

আমি: মেয়েটার নাম শুনেছি, মা ওকে সোফিয়া নামে ডেকেছিলো। এর বেশি কিছুই জানি না।

বাবা: লোকটার নাম জানো?

আমি: না।

বাবা: তার নাম, মোহাম্মদ বোরহানুদ্দিন খান গাজী।

আমি: কি! এতো আমাদের বর্তমান বাদশাহর ছোট ভাইয়ের নাম যিনি আগে বাদশাহ ছিলেন!

বাবা: হ্যা, যাকে তুমি বাঁচিয়েছ তিনিই আমাদের পূর্বের বাদশাহ ছিলেন। আর মেয়েটি তার মেয়ে রাজকুমারী সোফিয়া খান গাজী। তার মা এখনো বন্দি অবস্থায় আছেন রাজমহলে। রাজকুমারী ইজার সর্দারের ছেলের কাছে পাঠানো হচ্ছিলো, জোর করে এক ইহুদি ছেলেকে বিয়ে করার জন্য। সেই ইহুদি ছেলেটি হচ্ছে আমাদের বর্তমান বাদশাহর দ্বিতীয় স্ত্রীর ভাই। গতকাল তাদের বিয়ে হয়ে গেছে আর আজ বাদশাহ উপহার হিসেবে তার ভাই ও ভাতিজীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রীর ভাইয়ের কাছে পাঠাচ্ছিলো। তুমি তাদের না বাঁচালে আজ রাতেই মোহাম্মদ বোরহানুদ্দিন খান গাজীকে মেরে রাজকুমারী সোফিয়া খান গাজীকে জোর করে বিয়ে করতো সেই ইহুদি ইজার সর্দারের ছেলে।

আমি: আমি এইসব কিছুই জানতাম না। এখন বুঝতে পারছি যে আমি আমারদের বসতির জন্য বিপদের কারন। আমি ইচ্ছে করে এইসব করিনি। আমি তো শুধুমাত্র একজন অসহায় লোক আর তার মেয়েকে বাঁচিয়েছি। আমি জানতাম না তাদের সম্পর্কে।

বাবা: তুমি কি নিজেকে দোষ দিচ্ছো? এটা করো না। আগামীকালের জন্য প্রস্তুত হও। আমি চাই তুমি আমাদের বসতির ঘাসের মাঠ ও ছাগলগুলো উদ্ধার করো ইজার সৈন্যদের কাছ থেকে। আল্লাহ তোমাকে সাহায্য করবেন।

আমি: ইনশাআল্লাহ।

বাবা: রাতের খাবার আমাদের সাথে খাবে?

আমি: যদি আপনি অনুমতি দেন তাহলে আমার বন্ধুদের সাথে রাতের খাবার খেতে চাই।

বাবা: ঠিকাছে।

আমি: ধন্যবাদ বাবা।

বাবা: তাহলে তুমি আজ রাতের আক্রমণ করছো?

আমি: আপনি একজন যোগ্য সর্দার। এশার নামাজের পরে আপনি সেই ১০ জন ইজার সৈন্যকে আপনার তাঁবুর সামনে পাবেন, সেই সাথে ছাগলগুলোকেও।

বাবা: তুমি যা ভালো মনে করো। আল্লাহ তোমাকে সফলতা দেক।

আমি: আমিন।

বাবা: আমিন।

ভালোবাসাকে অবহেলা – যে দেশে ভালোবাসার জন্ম New Bangla Golpo 2020

তারপর আমি বাবার তাঁবু থেকে সরাসরি আমার ঘোড়ার কাছে চলে গেলাম। সেখানে গিয়ে দেখি সোফিয়া অপেক্ষা করছে। এই সময় ওকে এখানে দেখে অবাক লাগছে। তবে আমি রাজকুমারীদের পছন্দ করি না। হয়তো সেটা জানে না সোফিয়া।

সোফিয়া খান গাজী: কোথাও যাচ্ছেন?

আমি: একটু কাজ আছে।

সোফিয়া খান গাজী: আমি কি আপনার সাথে যেতে পারি?

আমি: অবশ্যই না, সোফিয়া খান গাজী।

সোফিয়া খান গাজী: যেনে গেছেন তাহলে সবকিছু?

আমি: হ্যা, আর আপনাকে এটা জানাতে চাই যে আমি রাজকুমারীদের পছন্দ করি না।

মেয়েটাকে কষ্ট দেয়া – যে দেশে ভালোবাসার জন্ম New Bangla Golpo 2020

আমার মুখে এই কথাটা শুনে সোফিয়ার দুচোখ দিয়ে পানি পরতে শুরু করলো। হঠাৎ আমার পরিবর্ত দেখে হয়তো কষ্ট পেয়েছে। তবে আমি কখনোই রাজ পরিবারের কাউকে পছন্দ করিনি, ভবিষ্যতেও করবো না।

আবার লড়াই – যে দেশে ভালোবাসার জন্ম New Bangla Golpo 2020

যাই হোক, আমি আমাদের বসতির ঘাসের মাঠে চলে গেলাম। লুকিয়ে লুকিয়ে সামনে এগিয়ে যাচ্ছি। আমার ঘোড়াটা আড়ালে রেখে হাতে তলোয়ার নিয়ে আসতে আসতে এগিয়ে যাচ্ছি ইজার সৈন্যদের দিকে।

ওরা ৮ জন বসে আছে, আর অন্য ২ জন আমাদের একটি ছাগল জবাই করবে বলে মনে হচ্ছে। অনুমতি না নিয়ে অন্যের ছাগল জবাই করার পরিনতি ওদের আজকে বুঝিয়ে দেবো।

প্রথমে আক্রমণ করলাম ছাগলের সামনে থেকা ২ সৈন্যকে। তলোয়ারের আঘাতে ২জনের হাত কেতে ফেললাম। ওরা আর কোনোদিন আন্যকারো ছাগল তো দূরের কথা, জীবিত থাকলে নিজের ছাগলও জবাই করতে পারবে না।

এই ২ সৈন্যের চিৎকার শুনে বাকী ৮ জন ছুটে এলো। কিন্তু ওরা ভয়ে আমাকে আক্রমণ করছে না। কিন্তু আমাকে আক্রমণ না করলে আমিও আক্রমণ করবো না। বেশকিছুক্ষন আমার চারপাশে ঘুরাঘুরি করার পরে ৮ জন মিলে একসাথে আক্রমণ করলো।

আমি ২ হাতে তলোয়ার নিয়ে ওদের তালোয়ারগুলোকে আটকে দিলাম। কিন্তু ৮ টা তলোয়ার একসাথে আটকাতে পারিনি, একটা আমার হাতে আঘাত করলো। রক্তমাখা হাত দিয়ে ৮ জনের সাথেই লড়াই করলাম।

আমার হাত দিয়ে অনেক রক্ত পরছে, কি আর করবো, আহত ১০ জনকে বেঁধে ঘোড়ার সাথে আটকে দিলাম। ওদের সবার অবস্থা অনেক খারাপ, হেটে যেতে পারবো না, তাই ঘোড়া দিয়ে টেনে টেনে নিয়ে যাবো।

বিশ্বাসঘাতক চাচা – যে দেশে ভালোবাসার জন্ম New Bangla Golpo 2020

হঠাৎ আমার পেছনে থেকে একজন আঘাত করার চেষ্টা করলো। আমি বুঝতে পেরে আটকে দিলাম তার তলোয়ার, কিন্তু পেছনে ফিরে যাকে দেখলাম তা আমি স্বপ্নেও ভাবিনি। আমার চাচ, রিফাত খান পাশা!

আমি: চাচা!

রিফাত খান পাশা: আজকের মতো সুযোগ আর পাবো না। তোর মতো বীর যোদ্ধাদের আহত অবস্থায় আক্রমণ করতে হয়। তোর বাবা আমার মাকে মেরেছে, তার প্রতিশোধ নেবো আজকে তোকে মেরে।

আমার বাবা – যে দেশে ভালোবাসার জন্ম New Bangla Golpo 2020

পেছন থেকে একটা আমার চাচার পিঠে আঘাত করলো। যন্ত্রণায় মাটিতে বসে পরলো এই শয়তান, যাকে আমি আমার বাবার মতো সম্মান করেছি এতোদিন। একটা লোক সামনে আসছে, আমি তলোয়ার হাতে নিলাম। দেখালাম বাবা এগিয়ে আসছেন, আগুনের আলোতে বোঝা যাচ্ছে তার চেহারা।

বাবা: (চাচাকে উদ্দেশ্য করে) তোকে আমার বাবা-মা নিজের সন্তানের মতো বড় করেছে, তোকে আর আমার কখনো পার্থক্য করেনি। কিন্তু তুই তোর জাতির লোকেদের মতোই বিশ্বাসঘাতক….

এই বলে বাবা তার তলোয়ারের এক আঘাতে চাচা শরীর থেকে মাথাটা আলাদা করে দিলো। দূর থেকে কিছু ঘোড়া ছুটে আসছে আমাদের দিকে। সামনে আসার পরে দেখলাম আমার ৩ বন্ধু আর রাশেদ ভাই, সাথে আরো কিছু সৈন্য আছে আমাদের।

জটিল অবস্থা শুরু – যে দেশে ভালোবাসার জন্ম New Bangla Golpo 2020

সবাই মিলে বসতিতে ফিরে গেলাম। এশার আযান দিচ্ছে। বাবার তাঁবুর সামনে জরো হয়েছে আমার বসতির অধিকাংশ লোক। বাবা সবাইকে ঘটনা বর্ণনা দিচ্ছেন। আর এদিকে আমার চাচি ফরিদা খান পাশা ও চাচাতো বোন সুহানি খান পাশা চাচার মৃত দেহের সামনে কান্নাকাটি করছে।

বাবা: (চাচি ও চাচাতো বোনকে উদ্দেশ্য করে) আমরা তোমাদের আপন ভেবেছিলাম, কিন্তু তোমরা আমাদের শত্রু ভেবেছো। আমি রিফাতকে আমাদের বসতির মেয়ে বিয়ে করার জন্য প্রস্তাব করেছিলাম, কিন্তু ও ইজার বসতি থেকে তোমাকে বিয়ে করেছে। তোমার আমাদের সাথে থেকে আমাদের পরিবারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছো। আমি চাই তোমরা তোমাদের ইজার বসতিতে আজকেই ফিরে যাবে।

ফরিদা খান পাশা: ছাড়বো না আমি কাউকে। এর প্রতিশোধ আমি নেবো।

বাবা: আমি চাইলে এখন তোমাকে আর তোমার মেয়েকে হত্যা করতে পারি, কিন্তু আমি সেটা করবো না।

তারপর চাচি ও চাচাতো বোন তার বাবার দেহ ঘোড়ার গাড়িতে নিয়ে ইজার বসতির দিকে রওনা দিলো। অবাক হয়ে সবাই দেখচে আর একে অন্যের সাথে বলাবলি করছে যে সর্দার যাদের এতো ভালোবাসে, নিজের পরিবারের মতো যাদের সাথে ব্যবহার করে তারাই সর্দারের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করলো!

সোফিয়া দৌড়ে এসে আমার হাতের কাটা জায়গা চেপে ধরলো রক্ত বন্ধ করার জন্য। আমার মা এতোসব কিছু দেখে অজ্ঞান হয়ে গেছে। তাই মাকে তাঁবুর ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মা জানেই না যে আমি আহত। জানলে হয়তো আরো বেশি অসুস্থ হয়ে যাবে। সোফিয়া কোন একভাবে খেয়াল করেছে। সোফিয়া আমার হাত চেপে ধরাতে বাবা ও অন্যরা খেয়াল করেছে যে আমি আহত, আমার হাত দিয়ে রক্ত পরছে।

আমাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হলো আমার তাঁবুতে। বাবা ছাগলগুলো আর সেই সৈন্যগুলোর ব্যবস্থা করছেন। মনেহচ্ছে না একটা ইজার সৈন্যকেও জীবিত রাখবেন। সোফিয়া নিজের চোখে পানি ফেলছে আর হেকিমকে (ডাক্তার) সাহায্য করছে। সোফিয়াকে দেখে মনে হচ্ছে যেনো বেথা আমি পাচ্ছি না, ও পাচ্ছে। হেকিম আমার হাতের কাটা জায়গার পরিচর্যা করে চলে গেলেন। সোফিয়া আমার পাশে বসে আছে আর আমার বন্ধুরা দাঁড়িয়ে আছে। এমন সময় বাবা আমার তাঁবুর ভেতরে ঢুকলো, বাবাকে দেখে সোফিয়া দাঁড়িয়ে গেলো। আমিও দাঁড়াতে চাইলাম, কিন্তু বাবা হাত ইশারা দিয়ে বারণ করলো।

আমি: মা কেমন আছে?

বাবা: ভালো আছে, জ্ঞান ফিরেছে, রিফাতের কাটা মাথা থেকে অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলো। তোমার মা এর আগেও অনেকবার কাটা মাথা থেকে অজ্ঞান হয়েছিলো। চিন্তা করো না। তোমার কি অবস্থা? আর তোমার হাতের এই আঘাত কি রিফাতের তলোয়ারের?

আমি: না, ইজার সৈন্যদের।

বাবা: ওদের শাস্তি ওরা পেয়েছে।

আমি: ওরা কি জীবিত নেই?

বাবা: জীবিত থাকার কথা না। তুমি কি জানতে তোমার চাচা যে ইজারদের গুপ্তচর হয়ে কাজ করছিলো?

আমি: হ্যা।

বাবা: তাহলে আমাকে বলোনি কেনো?

আমি: আপনি বিশ্বাস করতেন না। তাই আমি চেয়েছিলাম আপনি নিজের চোখে সবটা দেখেন।

বাবা: তাই বলে নিজেকে বিপদে ফেলে? আজকে রাশেদ আমাকে না বললে কি হতে পারতো জানো?

আমি: আমি শহীদ হোতাম।

বাবা: যদিও এতোই ইচ্ছা তোমার শহীদ হবার, তাহলে কেনো যাচ্ছো না আমাদের রাজ্যের বাদশাহর সাথে যুদ্ধ করতে? রাজমহলে গেলে ফিরে আসতে পারবে না, কারন বাদশাহ ইফাত খান গাজী জেনে গেছে যে তার ভাই ও ভাতিজি আমাদের বসতিতে আছে আর সে এটাও জানে যে রাহিম শাহ তাদের উদ্ধার করছে। তোমার চাচা কবুতরের মাধ্যমে পত্র পাঠিয়ে তাকে সব জানিয়েছে। আর রাজমহলে আমাদের গুপ্তচর সেই খবরটা আমাকে জানিয়েছে কবুতরের মাধ্যমে পত্র পাঠিয়ে। আজ বিকেলেই আমি সেই পত্র পেয়েছিলাম।

আমি: চাচা কিভাবে বাদশাহর সাথে যোগাযোগ করতে সক্ষম হয়েছিল!

বাবা: সরাসরি বাদশাহর সাথে যোগাযোগ করতে পারেনি, ইজারদের মধ্যমে করেছিলো।

আমি: চাচা জীবিত নেই, যুদ্ধ শেষ।

বাবা: যুদ্ধ মাত্র শুরু হয়েছে। সোফিয়ার বাবা তোমার সাথে কথা বলতে চায়। আশা করি তুমি তার প্রস্তাবে রাজি হবে।

আমি: কি প্রস্তাব?

বাবা: সেটা তিনি নিজেই বলবেন, তুমি আগে সুস্থ হও।

আমি: আমি ঠিক আছি।

বাবা: সেটা আমি দেখতেই পাচ্ছি।

এইবলে বাবা চলে গেলো আমার তাঁবু থেকে, আমার বন্ধুরাও চলে গেলো। সোফিয়া দাঁড়িয়ে আছে।

আমি: তুমি তোমার তাঁবুতে যেতে পারো। আমি এখন ঠিক আছি।

সোফিয়া খান গাজী: আমি কি আরো একটু তোমার সামনে বসতে পারি?

আমি: রাজকন্যাদের অনুমতি নেয়ার প্রয়োজন নেই, আমি একজন সাধারণ ছেলে।

আমার সেই স্বপ্ন – যে দেশে ভালোবাসার জন্ম New Bangla Golpo 2020

কাঁদতে কাঁদতে চলে গেলো সোফিয়া। আমি ওকে ভালোবাসি, কিন্তু আমি রাজপরিবারের লোকদের পছন্দ করি না। তারা অনেক খারাপ হয়। তারা নিজেদের রক্তের সম্পর্কের আত্মীয়দেরকেও হত্যা করে ক্ষমতার জন্য। যখন এইসব কথা ভাবছি, তখন সোফিয়ার বাবা আমার তাঁবুতে প্রবেশ করলো।

আমি: আসসালামু আলাইকুম।

মোহাম্মদ বোরহানুদ্দিন খান গাজী: ওয়ালাইকুম আসসালাম আমার বীর ছেলে।

আমি: আপনি এখন কেমন আছেন? দুঃখিত আমি বাদশাহকে বসতে দেয়ার জন্য বিশেষ কোনো চাদরের ব্যবস্থা করতে পারছি না।

মোহাম্মদ বোরহানুদ্দিন খান গাজী: আমি একজন বাদশাহ হয়ে তোমার কাছে আসিনি, আমি একজন বাবা হয়ে এসেছি তোমার কাছে আমার মেয়ের বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে।

আমি: মহামান্য বাদশাহ….

মোহাম্মদ বোরহানুদ্দিন খান গাজী: আমি জানি তুমি রাজ পরিবারের লোকদের পছন্দ করো না, আর একজন রাজকুমারীকে বিয়ে করতে চাও না। কিন্তু এই রাজ্যের একজন সৎ বাদশাহর প্রয়োজন। সেটা একমাত্র তুমি।

আমি: এইসব কিছু থেকে আমি দূরে থাকতে চাই।

মোহাম্মদ বোরহানুদ্দিন খান গাজী: আল্লাহ তোমাকে পাঠিয়েছেন এই রাজ্যের মুসলিমদের রক্ষা করার জন্য। নিজের দায়িত্বকে তুমি অবহেলা করতে পারো না। আমার মেয়েকে বিয়ে করলেই তুমি বাদশাহ হবার জন্য উপযুক্ত হতে পারবে। আমি আমার রাজ্যকে বাঁচানোর জন্য তোমার কাছে সাহায্য চাইতে এসেছি, আমার প্রস্তাব কবুল করো।

আমি: কিন্তু আমিই কেনো মহামন্য বাদশাহ? এই রাজ্যে হাজারো বীর যোদ্ধা আছে, তারা আমার চেয়েও বেশি সক্ষম।

মোহাম্মদ বোরহানুদ্দিন খান গাজী: সবাইকে তো স্বপ্নে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)” লেখা পতাকা দেয়া হয়নি।

আমি: আপনি এটা কি করে জানলেন! এই কথা আমি কাউকে বলিনি! কাউকে না! এমনকি আমার বাবা-মাকে ও না! তাহলে আমি কি করে জানলেন প্রতি সপ্তাহের শুক্রবার রাতে আমি এই স্বপ্ন দেখি যে আমার হাতে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)” লেখা পতাকা দেয়া হচ্ছে।

মোহাম্মদ বোরহানুদ্দিন খান গাজী: শুধুই কি পতাকা ছিলো? কোরআন শরীফ ছিলো না?

আমি: ছিলো, সাথে একটি তলোয়ার ও ছিলো।

মোহাম্মদ বোরহানুদ্দিন খান গাজী: (আমার স্বপ্নে দেখা সেই তলোয়ার আমার সামনে ধরে জিজ্ঞেস করলেন) এটাই কি ছিলো?

আমি: আল্লাহ! এ কি হচ্ছে আমার সাথে! এতো সেই তলোয়ার! যা আমি স্বপ্নে দেখি। প্রতি শুক্রবার রাতে আমি স্বপ্নে দেখি একজন লোক আমাকে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)” লেখা পতাকা দিচ্ছে, সেই পতাকা আমি হাতে নেয়ার পরে ঐ পতাকার উপরে কোরআন শরীফ রাখছে, আর সেই সাথে আমাকে এই তলোয়ারটিও দেয়া হয়। শুধু তাই নয়, একজন নারী দাঁড়িয়ে থাকে দূরে, তার কোলে থাকে একটি শিশু।

মোহাম্মদ বোরহানুদ্দিন খান গাজী: তুমি কেনো বলছো না যে সেই নারীটি সোফিয়া?

আমি: আমি সোফিয়াকে দেখেই উৎসাহ নিয়ে আপনাদের উদ্ধার করতে গিয়েছিলাম। যদিও আপনাদের জায়গায় অন্য কেউ থাকলেও আমি এটাই করতাম। তবে আমার কৌতুহল ছিলো সোফিয়া, আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না আমার স্বপ্নে দেখা মেয়েটি বাস্তবে আমার সামনে আসবে। আমি এই স্বপ্নের রহস্য জানার জন্যই আপনাদের উদ্ধার করে আমাদের বসতিতে নিয়ে এসেছি।

এমন সময় একজন লোক আমার তাঁবুতে প্রবেশ করলো। তাকে দেখে আমি অবাক হয়ে তার দিকে তাকিয়ে আছি।

রাজমহলের মসজিদের ইমাম: তোমার সপ্নের সেই লোকটিকে চিনতে পারছো?

আমি: আপনি!

মোহাম্মদ বোরহানুদ্দিন খান গাজী: উনি আমাদের রাজমহলের মসজিদের ইমাম।

রাজমহলের মসজিদের ইমাম: আমার পরিচয় তাকে দিতে হবে না, সে আমাকে আগে থেকেই চেনে, যদিও বাস্তবে প্রথমবার দেখছে।

মোহাম্মদ বোরহানুদ্দিন খান গাজী: তুমি কি এখনো আমার প্রস্তাব কবুল করবে না?

আমি: আমি জানি না আমার কি করা উচিৎ, তবে আমি সব সময় এইসব কিছু থেকে দূরে থাকতে চেয়েছি, সাধারণ জীবন চেয়েছি।

রাজমহলের মসজিদের ইমাম: সাধারণ জীবন শুধুমাত্র সাধারণ মানুষদের জন্য, তোমার জন্য নয়। আমি চাই আজ রাতেই তোমার সাথে রাজকুমারী সোফিয়ার বিয়ে দিতে, আশা করি তুমি এতে দ্বিমত করবে না।

আমি: আমি একটা শর্তে বিয়ে করতে রাজি। এই রাজ্য জয় করার পরে আমি বাদশাহ হবো না। বাদশাহ হবেন মোহাম্মদ বোরহানুদ্দিন খান গাজী।

রাজমহলের মসজিদের ইমাম: আল্লাহ যদি চান তাহলে সেটাই হবে। তবে একটা কথা মনে রেখো, আল্লাহ যদি চাইতেন মোহাম্মদ বোরহানুদ্দিন খান গাজী ই বাদশাহ থাকবেন, তাহলে এখন তিনিই বাদশাহ থাকতেন। তুমি প্রমান করলে তোমার কোনো লোভ নেই, আর এমন একজন বাদশাহ ই আমাদের প্রয়োজন। আমাদের চারিদিকে অনেক বিপদ, তোমাকে প্রস্তুত হতে হবে, সেই সাথে তোমার সন্তানকেও প্রস্তুত করতে হবে তোমার পরে এই রাজ্যের বাদশাহ হবার জন্য। এখন আর সময় নষ্ট না করে আমি তোমার বাবা-মা কে তোমার বিয়ের আয়োজন করার কথা বলতে যাচ্ছি। খুশি হবো মোহাম্মদ বোরহানুদ্দিন খান গাজী যদি আমার সাথে আসেন।

মোহাম্মদ বোরহানুদ্দিন খান গাজী: অবশ্যই, চলুন মহামান্য ইমাম।

তারপর মোহাম্মদ বোরহানুদ্দিন খান গাজী আমার পাশে তলোয়ারটা রেখে চলে গেলেন। আমি উঠে দাঁড়ালাম, এশার নামাজ পড়লাম। তারপর আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইলাম। আমি কিছুই বুঝতে পারছি না, কি হচ্ছে আমার সাথে। আল্লাহ আমাকে সাহায্য করুন।

তলোয়ারটা হাতে নিয়ে দেখেছি। খেয়াল করলাম তলোয়ারের গায়ে আল্লাহর ৯৯ টি নাম লেখা আছে। আমি বার বার অবাক হচ্ছি। আমার সাথেই কেনো এইসব ঘটনা ঘটছে!

বিয়ের রাত – যে দেশে ভালোবাসার জন্ম New Bangla Golpo 2020

এমন সময় আমার বন্ধুরা আমার তাঁবুর ভেতরে এলো। ওরা আমার সাথে মজা করছে আমার বিয়ে নিয়ে। সেই সাথে আমাকে বলতে এসেচে যে বিয়ের সব আয়োজন হয়ে গেছে, সর্দারের তাঁবুতে আমার বিয়ে হবে সোফিয়ার সাথে, সবাই অপেক্ষা করছে।

আমাদের রাজ্যে বিয়ে মানে অতি সাধারণ কিছু। এখানে কোনো বিলাসিতা হয়না, অপচয় হয়না, বিয়ে হয় ইসলামের নিয়ম অনুসারে। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা ১ বেলাতেই শেষ করা হয়।

বিয়ে হয়ে গেলো, এখন সোফিয়া আমার স্ত্রী। বাবার তাঁবুর বাইরে বিশাল বড় বড় কাপড়ের টুকরা বিছানো হলো। সেখানে বসে অপেক্ষা করছে আমাদের বসতির লোকেরা। নারী ও শিশুরা এক পাশে, পুরুষেরা এক পাশে। সবার জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আমরা খাবার হিসেবে রুটি, ছাগলের মাংস, পনির, ছানা, মধু ও বিভিন্ন ফল ও ফলের শরবত খেয়ে থাকি। এগুলোই আমার প্রতিদিনের খাবার। যে কোনো অনুষ্ঠানেও এইসব খাবার থাকে, তবে প্রতিদিন সবাই যার যার তাঁবুতে খাবার খাই, আর কোনো অনুষ্ঠানে সবাই একসাথে বসে খাই, এটাই পার্থক্য।

সবাই অনেক আনন্দ করছে। কিন্তু আমি জানি, এই বিয়ে মানে আমার জন্য অনেক দায়িত্বে শুরু। এদিকে আমার বড় ভাই ও আমার ভাবির দিকে তাকালেই বোঝা যাচ্ছে যে তারা খুশি না, কারন তারা বুঝতে পারছে যে এই বসতির পরবর্তী সর্দার আমি হবো। আমার ভাবি সবসময় চেয়েছে যেনো বড় ভাই এই বসতির সর্দার হয়, কিন্তু সেটা হয়তো হবে না, এটা বুঝতে পেরে আমার ভাই ও ভাই দুজনেই খুশি না এই বিয়েতে।

যাই হোক, বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে আমি আর সোফিয়া আমার তাঁবুতে। এতোদিন আমি একা ছিলাম, এখন একজন সঙ্গী পেলাম। একদিকে খুশি অন্যদিকে দায়িত্বের চিন্তা। এদিকে আমরা হাতটাও বেথা করছে।

সোফিয়া খান গাজী: এখন আমি সব সময় তোমার পাশে বসে থাকতে পারবো, তোমাকে ছুঁতে পারবো, তোমার দিকে তাকিয়ে মন খুলে কথা বলতে পারবো।

আমি: অবশ্যই, অবশ্যই পারবে। একটা কথা তোমাকে বলা হয়নি।

সোফিয়া খান গাজী: কি কথা?

আমি: ভালোবাসি তোমাকে।

সোফিয়া খান গাজী: আমি আমার জীবনের চেয়েও তোমাকে বেশি ভালোবাসি।

আমার বুকে মাথা রেখে ও চোখদুটো বন্ধ করলো। কিছুসময়ের মধ্যে ঘুমিয়ে গেলো। মনেহচ্ছে যেনো অনেদিন শান্তিতে ঘুমায়নি। শুনেছিলাম ওকে আর ও বাবা-মা কে ১ বছর যাবৎ কারাগারে বন্দি করে রাখা হয়েছিলো। আমারও অনেক ঘুম পাচ্ছে….

ফজরের নামাজের সময় ঘুম ভেঙে গেলো, আযান দিচ্ছে। চোখ মেলে দেখি সোফিয়া পানি নিয়ে অপেক্ষা করছে। হয়তো আমার অযু করার পানি।

সোফিয়া খান গাজী: আমার রাজকুমারের ঘুম ভেঙ্গেছে?

আমি: জি ভেঙ্গেছে আমার প্রিয় স্ত্রী।

সোফিয়া খান গাজী: বাহ! আমার স্বামী তো অনেক আদর দিয়ে কথা বলতে পারে তার বউয়ের সাথে।

আমি: তাই বুঝি? কখন উঠেছো?

সোফিয়া খান গাজী: কিছুক্ষন হলো।

তারপর অযু করে আমার মসজিদে গেলাম, আর সোফিয়া তাঁবুতে নামাজ পড়লো।

অবশেষে লড়াই শুরু – যে দেশে ভালোবাসার জন্ম New Bangla Golpo 2020

নামাজ শেষে তাঁবুতে ফেরার সময় আমার বড় ভাই মোহাম্মদ সাদিক শাহ আমাকে ডেকে বললেন,

মোহাম্মদ সাদিক শাহ: তোর সাথে কিছু কথা আছে।

আমি: কি কথা ভাই?

মোহাম্মদ সাদিক শাহ: এখানে বলা যাবে না, আমার সাথে আয়।

আমি ভাইয়ের সাথে গেলাম। ভাই আমাকে একটা নির্জন জায়গায় নিয়ে এলো। যদি অন্যকেউ হতো তাহলে আমি আসতাম না, কারন এই জায়গায় ইজার সৈন্য থাকে প্রায় সময়। আমার সাথে কোনো তলোয়ার নেই, তবে ভাইয়ের সাথে আছে, যদি ইজার সৈন্যরা আক্রমণ করে তাহলে ভাই সামলে নিতে পারবে।

আমার ধারনাই ঠিক ছিলো, দূরে ২ জন ইজার সৈন্য দেখা যাচ্ছে। আমি ভাইকে ইজার সৈন্যদের কথা বলবো আর ঠিক সেই সময় আমার আপন বড় ভাই মোহাম্মদ সাদিক শাহ আমাকে পেছন থেকে মাথায় আঘাত করে। তারপর বেহুশ হয়ে মাটিতে পরে যাই।

যখন জ্ঞান ফিরলো, দেখলাম আমি একটা কারাগারে বন্দি অবস্থায় আছি। আমার হাত পা বাঁধা। এই দিনটাও আমার দেখতে হলো! আমার আপন বড় ভাই আমার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করলো! এই জন্যই আমি সাধারণ থাকতে চেয়েছিলাম, আমি জানি ক্ষমতা খেলা হচ্ছে নোংরা খেলা। আল্লাহ আমাকে সাহায্য করুন…. আমার বাবা-মা-স্ত্রী কে সাহায্য করুন…. আমার মুসলিম ভাই-বোনদের সাহায্য করুন…. লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম…. লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম….

একজন সৈন্য এলো, দেখে মনে হচ্ছে রাজমহলে সৈন্য। সে এসে আমার কারাগারের সামনে দাঁড়িয়ে থাকে জল্লাদকে আক্রমণ আক্রমণ করে কারাগারে প্রবেশ করলো,

রাজমহলে সৈন্য: বেশি সময় নেই, আমি আপনার বাবা মোহাম্মদ হামজা শাহের গুপ্তচর। এর আগে মোহাম্মদ বোরহানুদ্দিন খান গাজীর গুপ্তচর ছিলাম। আপনার জন্য রাজমহলে সৈন্যদের পোশাক নিয়ে এসেছি, এটি পরে আপনি সহজেই সবার চোখে ফাঁকি দিয়ে রাজমহলের বাইরে চলে যেতে পারবেন।

আমি: আমার পরিবারের সবাই কেমন আছে?

রাজমহলে সৈন্য: আপনার বড় ভাই, ভাবি, মা ও শ্বশুর আর জীবিত নেই।

আমি: আল্লাহ….

রাজমহলে সৈন্য: কষ্ট পাবে না। নিজের মনকে শক্ত রাখুন। আপনার বাবা ও স্ত্রী ঠিক আছেন, বিশাল বড় সৈন্যবাহিনী আপনার জন্য অপেক্ষা করছে। ইজাররা সকল মুসলিম বসতির উপর আক্রমণ করার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে, তাদের সাথে যোগ দেবে আমার রাজমহলের সৈন্য। তবে মারিশরা এই যুদ্ধে নিরপেক্ষ থাকতে চায়, তারা কারো পক্ষ নিবে না বলে জানতে পেরেছি।

আমি: রাজমহলের সৈন্যরা ইজাদের সাথে অংশ নেবে না।

রাজমহলে সৈন্য: সেটা কিভাবে সম্ভব!

আমি: কারন আমাদের বর্তমান বাদশাহ ইফাত খান গাজী জীবিত থাকবেন না।

রাজমহলে সৈন্য: আপনি কি শয়তান ইফাত খান গাজীকে হত্যা করার কথা ভাবছেন?

আমি: না, অন্যকিছু।

রাজমহলে সৈন্য: আল্লাহ আপনাকে সফলতা দান করুক। এই রাজ্যের মুসলিম বসতি গুলো আপনার জন্য অপেক্ষা করছে।

আমি: ইনশাআল্লাহ, মুসলিমরা বিজয়ী হবে।

রাজমহলে সৈন্য: আমিন….

আমি: আমার মা, ভাই, ভাবি ও শ্বশুরকে কারা মেরেছে?

রাজমহলে সৈন্য: আপনার বাবা নিজের সাথে আপনার বড় ভাই মোহাম্মদ সাদিক শাহ ও তার স্ত্রীর শরীর থেকে মাথা আলাদা করে দিয়েছে তার তলোয়ারের আঘাতে। এই দৃশ্য সহ্য করতে না পারে আপনার মা……….

আমি: আমার আমার শ্বশুর মোহাম্মদ বোরহানুদ্দিন খান গাজী?

রাজমহলে সৈন্য: আপনার বড় ভাই ও তার স্ত্রী দুজনে মিলে কৌশলে তাকে মেরে ফেলেছেন ও সেই সাথে আপনার বাবার বন্ধু ও আপনাদের বসতির কামার মোহাম্মদ আলী শাহকে আহত করেছেন।

আমি: আল্লাহ আমার মা ও শ্বশুরকে জান্নাত নসিব করুক, আমিন।

রাজমহলে সৈন্য: আমিন। আপনি আর দেরি করবেন না। হয়তো আমার সাথে আর দেখা হবে না, আপনি কারাগারে নেই এই খবর পাওয়া মাত্রই আমার মেরে ফেলা হবে।

আমি: কে কখন মরবে সেটা একমাত্র আল্লাহই ভালো জানেন। আপনি আমাকে শয়তান বাদশাহ ইফাত খান গাজীর কাছে যাওয়ার রাস্তা বলুন।

আলহামদুলিল্লাহ…. আমি সুস্থ অবস্থায় আমার বসতিতে ফিরে এসেছি…. আমাকে দেখে আমার স্ত্রী, বন্ধু ও আমার বসতির লোকেরা যে প্রাণ ফিরে পেয়েছে। সবাই আল্লাহুয়াকবার…. আল্লাহুয়াকবার…. বলে আনন্দ প্রকাশ করছে।

বাবা তার তাঁবু থেকে বের হয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরলেন, বাবার সাথে ছিলেন রাজমহলের মসজিদের ইমাম….

বাবা: (কাঁদতে কাঁদতে বলছেন) আলহামদুলিল্লাহ…. আলহামদুলিল্লাহ…. আমার ছেলে ফিরে এসেছে।

রাজমহলের মসজিদের ইমাম: আল্লাহ আপনাকে এভাবেই বিজয় দান করুক মোহাম্মদ রাহিম শাহ। আমিন।

আমি: আমিন। সবার জন্য কিছু উপহার এনেছি….

মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন শাহ: আমার জন্যও এনেছিস?

মোহাম্মদ নুরুদ্দিন শাহ: তুই বেশি কথা বলসি সাইফুদ্দিন।

মোহাম্মদ সালাউদ্দিন শাহ: তোরা থামবি? এটা মজা করার সময় না।

আমি: হ্যা, সবার জন্য।

তারপর আমার পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা রাজমহলের সৈন্যদের ইশারা করলাম, তারা ৩ জন লোককে বন্দি অবস্থায় আর একজন নারীকে বের করে আনলো ঘোড়ার গাড়িগুলো থেকে।

ঐ নারীকে দেখে আমার স্ত্রী সোফিয়া দৌড়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরলো। সে আমার শাশুড়ি, রোকেয়া খান গাজী। আর বাকী ৩ জন বন্দি হচ্ছে বর্তমান বাদশাহ ইফাত খান গাজী ও তার দুই স্ত্রী।

আমি রক্ত দিয়ে যুদ্ধ জয় করতে চাইনি, চেয়েছিলাম বুদ্ধি দিয়ে জয় করতে। কারাগার থেকে ঐ গুপ্তচরের সাহায্য নিয়ে আমি বাদশাহ ইফাত খান গাজীর কাছে যাই ও তার প্রহরীদের আহত করে তাকে আটক করি। যেখানে বাদশাহ আমার কাছে বন্দি, সেখানে রাজমহলের সৈন্যরা আমার কথা শুনতে বাধ্য, আর সেটাই হয়েছে।

আমি নিজের হাতে বাদশাহ, ইফাত খান গাজীর শরীর থেকে মাথা আলাদা করে দিলাম আমার তলোয়ারের আঘাতে। তারপর ১ বছর পার হয়ে গেলো সব কিছু শান্ত করতে। অবশেষে শান্তি ফিরে আসলো রাজ্যে, যা স্বপ্নে দেখেছিলাম সেটাই হলো। রাজমহলের মসজিদের ইমামা আমার হাতে তুলে দিলেন “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)” লেখা পতাকা, কোরআন শরীফ। আর তলোয়ারটা আমার কাছে আগে থেকেই ছিলো। আমাকে এই রাজ্যে বাদশাহ বানানো হলো, একটু দূরেই দাঁড়িয়ে আছে আমার স্ত্রী সোফিয়া, তার কোলে আমার ছেলে।

এই রাজ্য থেকে শুরু হবে নতুন কিছু। বাদশাহ হিসেবে হয়, ভালোবাসা দিয়ে সবার মন জয় করবো। জন্ম হবে নতুন করে এক দেশ, যে দেশ ভালোবাসার জন্ম।

পরিচিতি পর্ব – যে দেশে ভালোবাসার জন্ম New Bangla Golpo 2020

আমি, মোহাম্মদ রাহিম শাহ

বাবা, মোহাম্মদ হামজা শাহ

মা, হালিমা শাহ

বড় ভাই, মোহাম্মদ সাদিক শাহ

বউ, সোফিয়া খান গাজী

শ্বশুর, মোহাম্মদ বোরহানুদ্দিন খান গাজী

শাশুড়ি, রোকেয়া খান গাজী

দাদা শ্বশুর, মোহাম্মদ তৈমুর খান গাজী

চাচা, রিফাত খান পাশা

চাচি, ফরিদা খান পাশা

চাচাতো বোন, সুহানি খান পাশা

কামার (শক্ত চাচা), মোহাম্মদ আলী শাহ

বন্ধু, মোহাম্মদ সালাউদ্দিন শাহ

বন্ধু, মোহাম্মদ নুরুদ্দিন শাহ

বন্ধু, মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন শাহ

বাবার দেহরক্ষী, মোহাম্মদ রাশেদ শাহ

বাদশাহ, ইফাত খান গাজী

আমাদের বসতির নাম, শাহ বসতি

শ্বশুরদের বসতির নাম, গাজী বসতি

ইহুদি বসতির নাম, ইজার বসতি

খ্রিষ্টান বসতির নাম, মারিশ বসতি

আরো গল্প পড়তে এখানে ভিজিট করুন >>> গল্প

Copyright – prothomalo.org

সবাই যা খুঁজছে: new bangla golpo 2020, new bangla golpo, bangla golpo, golpo, bangla golpo love, bangla golpo love story, new bangla love story, new bangla story book, new bengali story books, bengali books online free reading, premer kahini, valobashar golpo, misti valobasar golpo, prem valobashar golpo, bhalobasar golpo, ভালোবাসার গল্প, valobasar golpo, valobashar golpo, রোমান্টিক গল্প, বাংলা রোমান্টিক গল্প, ভালবাসার রোমান্টিক গল্প, new valobasar golpo, বাংলা ভালবাসার গল্প,

বিশেষ নোটিশ

আমাদের নতুন ওয়েবসাইট aWhatsappStatus.org একবার হলেও ভিজিট করুন।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*


3 × 3 =