183+ Romantic Premer Golpo | প্রথমবার হবু বউয়ের সাথে সারারাত কথা বলা

Romantic Premer Golpo: এবার আর আমি মেয়ে দেখতে যাচ্ছি না। কেনো জানে? এর আগে আমার আম্মাজান ৬ টা সুন্দরী মেয়েকে বাদ দিয়েছে কোন না কোন কারন দেখিয়ে। কোন মেয়েকে বাদ দিয়েছে কারন সেই মেয়ের নাক ছোট, আবার কোন মেয়ে রান্নাবান্না করতে পারে না, আবার কোন মেয়ের পরিবারের লোকজন রাগী, আরো কতো কি কারন আছে!

প্রায় ২ বছর যাবৎ আমাকে বিয়ের দেয়ার জন্য আমার বাবা-মা মেয়ে খুঁজছে কিন্তু কোন কোন মেয়েই তাদের পছন্দ হচ্ছে না। আমি তো ভেবেই নিয়েছি যে আমার আর বিয়ে করা হবে না, যদি এভাবেই চলতে তাহলে। আমার তো মনেহয় আমার আম্মু আমাকে বিয়েই দিতে চায় না, নয়তো এতো সুন্দরী মেয়েদের কেউ না করতে পারে!

মাঝে মাঝে আমার আব্বুও আমার আম্মুর উপরে অনেক রেগে যায়, কারন খুব সাধারণ কারন দেখিয়ে বিয়ের প্রস্তাব না করে দিচ্ছে আমার আম্মু। আজকে নাকি আবার আমার জন্য মেয়ে দেখতে যাবে, এবার আর আমি যাচ্ছি না, অযথা গিয়ে কি লাভ! কয়েকদিন পরে এই মেয়ের ও কোন একটা দোষ খুঁজে পাবে আর না করে দিবে।

আমি আমার শক্ত অবস্থান বজায় রেখেছি, আমার আব্বু, আম্মু, দাদা, দাদি, নানা, নানি, খালা, ফুফু, আংকেল, মামা, মামি, ভাই-বোন, যা আছে, সবাই গেছে, কিন্তু আমি বাসায় বসে আছি। যদিও আমি বুঝতে পারছে না যে এবার মেয়ে দেখার জন্য এতো লোক কেনো গেলো! যদিও যার বিয়ে সে ই যায় নাই, মানে আমি তো বাসায়।

কিছুক্ষন পর পর আমার খালাতো, ফুফাতো, মামাতো ভাই-বোনেরা ফেসবুকে গ্রুপে ম্যাসেজ দিচ্ছে, “ভাইয়া, ভাবি তো অনেক সুন্দর”, “ভাই, ভাই কে একবার দেখলেই প্রেমে পরে যাবা”, “ভাই, ভাবি তো confirm হয়ে গেছে, congratulation”।

ওদের এইসব ম্যাসেজ দেখে আমার মনের ভেতরে আগুন জ্বলছে। সত্যি বলতে, ইচ্ছে করছে এখনই যাই, গিয়ে দেখি, কোন দেশের কোন পরী সে, যার রূপের এতো সুনাম করছে আমার ভাই-বোনেরা। যখন আমি এইসব ভাবছি, তখন আম্মু আমাকে ফোন দিলো,

আম্মু: কিরে, কি করছ?

আমি: এইতো, ঘরে বসে আছি।

আম্মু: তুই তো আমাদের সাথে আসলি না, মেয়ে তো আমাদের পছন্দ হইছে।

আমি: এমন তো প্রতিবারই বলো পছন্দ হইছে, তারপর না করে দাও।

আম্মু: আরে না, এবার সত্যি পছন্দ হইছে, এই মেয়েকেই আমার একমাত্র ছেলের বউ করে নিয়ে যাবো।

আমি: (আম্মুর কথা শুনে আমারও মনে হচ্ছে আসলেই এবার মেয়ে পছন্দ হইছে, তবে আমি ভাব নিয়ে বললাম) পছন্দ হইলে ভালো, না হইলে আরো ভালো।

আম্মু: আমি জানি আগে অনেক গুলা মেয়ে না করে দিছি তাই তুই আমার সাথে রাগ করছস। তবে এই মেয়েকে দেখলে আমার উপর আর তোর রাগ থাকবে না।

আমি: (আম্মুর কথা শুনে আমার একটু লজ্জা লাগছে, আর আফসোস ও হচ্ছে, কারন আম্মুও এই মেয়ের রূপের বর্ণনা দিচ্ছে! ইস! আজকে মেয়ে দেখতে সবার সাথে না গিয়ে ভুল করলাম মনে হচ্ছে, তবুও ভাব নিয়ে বললাম) তুমি কি আমারে আর কিছু বলবা আম্মু?

আম্মু: যে জন্য ফোন দিছি, তুই কি মেয়ে দেখবি না?

আমি: (খুব ইচ্ছে করতে দেখতে, তবুও বললাম) না, মেয়ে দেখবো না।

আম্মু: তাহলে আমরা মেয়ের বাড়ির লোকেদের পাকা কথা কীভাবে দিবো!

আমি: তুমি কি আমার পছন্দ মতো মেয়ের সাথে বিয়ে দিবে আমারে! তোমার যদি পছন্দ হয় তাহলে পাকা কথা দিয়ে আসো।

এই বলে আমি ফোন রেখে দেই। কিন্তু আমার মনের মধ্যে আগুন জ্বলছে, অনেক ইচ্ছে করছে মেয়েটাকে দেখতে। মেয়েটার ছবি আমাকে দেখতে বলেছিলো, কিন্তু আমি রাগ করে দেখিনি, এখন সেই ছবিটাও যদি সামনে থাকতো তাহলে দেখতাম। কিন্তু ছবিটা মনেহয় আম্মু আলমারির ভেতরে রেখেছে, আর আলমারি তালা দেয়া থাকে।

যাই হোক, আমি বসে বসে টিভি দেখছি, সবাই সেই বিকেলে গেছে মেয়েদের বাড়িতে, আর এখন বাজে রাত ১০ টা, এখনো কেউ আসছে না! এতোক্ষন কি করছে মেয়েদের বাড়িতে!

কিছুক্ষন পরে সবাই এলো, আমাদের শান্ত ঘরটা এখন অশান্ত করে তুলেছে আমার ভাই-বোন আর আত্মীয় স্বজনেরা, সবার মুখে মেয়ের রূপের প্রশংসা আর মেয়ের বাড়ির লোকদের সুনাম। সবাই নাকি রাতে মেয়েদের বাড়ি থেকে খেয়ে এসেছে! বাহ! আর আমি এখনো না খেয়ে আছি! মনে হচ্ছে আমার বিয়েতে আমি বাদে সবাই VIP লোক।

আমি কারো কথায় পাত্তা না দিয়ে চুপচাপ টিভি দেখছি। কিছুসময় পরে আম্মু একটা প্লেটে পোলাও, রোস্ট, কাবাব নিয়ে এসে আমার সামনে বসলো,

আম্মু: বুঝেছি রাগ করে আছিস, আমার আদরের ছেলেটা এখনো কিছুই খাইনি, এটাও জানি। আসলে আমি বুঝতে পারিনি মেয়েদের বাড়ি থেকে ফিরতে এতো দেরি হয়ে যাবে, নয়তো তোর জন্য কিছু রান্না করে যেতাম। যাই হোক, এই নেয়ে, তোর শ্বশুর বাড়ি থেকে তোর জন্য খাবার পাটিয়েছে, টেবিলে আরো খাবার রাখা আছে।

আমি: আমার বিয়ে হলো কবে আর শ্বশুর বাড়ি কোথা থেকে এলো!

আম্মু: (খাবারের প্লেট টা আমার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললো) বিয়ে হবে পরের মাসের ৫ তারিখে, আর এই মাসের ২৫ তারিখে এংগেজমেন্ট।

আমি: (একটু অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম) আসলেই কি এবার মেয়ে পছন্দ হয়েছে তোমার!

আম্মু: তোর মোবাইল দে।

আমি: মোবাইল দিয়ে কি করবা!

আম্মু: আরে দে মোবাইলটা, কাজ আছে।

খাবারের প্লেট টা রেখে পকেট থেকে মোবাইল বের করে আম্মুর হাতে দিলাম। আম্মু একটা নাম্বার টাইপ করে ফোন দিলো, আর স্পিকার চালু করলো, ওপাশ থেকে একটা মেয়ে ফোন ধরে বললো,

মেয়ে: হ্যালো, কে বলছেন?

আম্মু: হ্যালো মামুনি, আমি রাফিনের আম্মু বলছি, এটা রাফিনের নাম্বার। তোমাকে জানার জন্য ওর নাম্বার থেকে ফোন দিলাম, এখন তো তোমাদের বিয়ের ঠিক হয়ে গেছে, কিন্তু এযুগের ছেলে মেয়ে তোমারা, বিয়ের আগে একটু আদটু কথা বার্তা না বললে কি চলে! রাফিন একটু পরে তোমাকে ফোন দিবে।

মেয়ে: ঠিক আছে আম্মু। আপনারা বাসায় পৌঁছে গেছেন?

আম্মু: হ্যা মামুনি, আমরা বাসায় পৌঁছে গেছি। তুমি রাতে খেয়েছো? আমাদের সাথে তো তখন খাও নি তুমি।

মেয়ে: না আম্মু, এখনো খাইনি।

আম্মু: তাহলে খেয়ে ফেলো, অনেক রাত হয়ে গেছে। রাফিন ও এখন খাবে। তারপর তোমরা নিজেদের মধ্যে কথা বলে নিও। এখন রাখছি, পরে আবার কথা হবে।

মেয়ে: ঠিক আছে আম্মু।

প্রথমবার হবু বউয়ের সাথে সারারাত কথা বলা

তারপর আম্মু মোবাইলটা আমার হাতে দিলো। আমি হতবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম,

আমি: এইসব কি হলো! আর মেয়েটা তোমাকে আম্মু বলে ডাক দিলো কেন!

আম্মু: যা হয়েছে তা তো তোর সামনেই হয়েছে, স্পিকারে দিয়েই তো কথা বললাম।

আমি: আসলেই আমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে!

আম্মু: বিশ্বাস না হলে মাইমুনা কে ফোন দিয়ে জিজ্ঞেস কর।

আমি: মাইমুনা আবার কে!

আম্মু: যেই মেয়েটার সাথে কথা বললাম, সে মাইমুনা, তোর হবু বউ।

তারপর আমাকে জড়িয়ে ধরে আমার মাথায় একটা চুমু দিয়ে আম্মু চলে গেলো ভেতরে।

আমি খাবারগুলো খাচ্ছি আর ভাবছি, আমি কি স্বপ্ন দেখছি!

খাওয়া শেষে আমার রুমে গেলাম, খেয়াল করলাম আমার মোবাইল বাজছে।

আমি: হ্যালো!

মাইমুনা: আম্মু আমাকে ফোন দিয়ে বললো আপনার নাকি বিশ্বাসই হচ্ছে না যে আপনার বিয়ে ঠিক হয়েছে, তা আপনাকে বিশ্বাস করানোর জন্য কি করতে পারি, আমার হবু স্বামী?

আমি: জানি না।

মাইমুনা: আম্মু আমাকে সবকিছুই বলেছে।

আমি: কি কি বলেছে?

মাইমুনা: সেই সব কথা থাক এখন, আমাকে এখন দায়িত্ব দেয়া হয়েছে আমার হবু স্বামীর রাগ ভাঙানোর।

আমি: কিন্তু আমি তো রাগ করিনি।

মাইমুনা: ফেসবুকে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠিয়েছি, accept করে, আর ভিডিও কল দিচ্ছি, রিসিভ করেন।

তাড়াতাড়ি ফেসবুকে গেলাম, ওর ফ্রেন্ড রিকুয়েষ্ট accept করার সাথে সাথেই আমাকে ভিডিও কল দিলো।

আমি: এখন বুঝতে পারছি, সবাই কেনো আপনার রূপের প্রশংসা করছিলো।

মাইমুনা: উহু, আপনি না, তুমি।

আমি: ঠিক আছে, তুমি।

তারপর সারারাত আমরা কথা বললাম। বিয়ের আগের বউয়ের সাথে প্রথমবার সারা রাত কথা বললাম। এই অনুভুতিটা প্রকাশ করার মতো কোন ভাষা আমার জানা নেই। কথা বলার সময় মনে হচ্ছিলো যেনো আপন কারো সাথে কথা বলছি।

এই Romantic Premer Golpo টি কাল্পনিক, প্রতিদিন এই prothomalo.org ওয়েবসাইটে নতুন গল্প আপলোড করা হয়।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*


11 − five =